জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – পর্ব ১১ !!!

ভূয়া শহীদদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে গেজেটে প্রকাশিত তালিকাটা দীর্ঘ করা হয়েছে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে। আবার জুলাই-আগষ্ট মাসে নিহতদের পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা, ফ্ল্যাট সহ বিভিন্ন সুবিধা পাবে ঘোষণার পর জুলাই-আগষ্ট মাসের ষড়যন্ত্রের আন্দোলনে কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা ছাড়া বিভিন্ন অপকর্ম করতে গিয়ে নিহত হওয়া অনেকের পরিবার নিজেদের নিহত সন্তান / পরিবারের সদস্যদের / নিকটজনদের “জুলাই শহীদ” প্রমান করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, প্রায় সকলেই সফলও হয়। তবে পরবর্তীতে ফেসবুকে লেখালেখি, বিভিন্ন মিডিয়ায় অনুসন্ধানী নিউজ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় সমালোচনার কারনে কয়েকজনের জালিয়াতি ও কর্তৃপক্ষের অসহায় আত্মসমর্পণের কারনে অন্তর্ভুক্ত কয়েকজনের নাম ইতোমধ্যেই বাদ পড়েছে এবং আরো কিছু বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অচেনা একজন
11 Min Read


আগের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে শহীদ গেজেট’ প্রকাশ করতে শুধুমাত্র আন্দোলনে নিহতদেরই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এমনটা নয়। ভূয়া শহীদদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে গেজেটে প্রকাশিত তালিকাটা দীর্ঘ করা হয়েছে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে। আবার জুলাই-আগষ্ট মাসে নিহতদের পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা, ফ্ল্যাট সহ বিভিন্ন সুবিধা পাবে ঘোষণার পর জুলাই-আগষ্ট মাসের ষড়যন্ত্রের আন্দোলনে কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা ছাড়া বিভিন্ন অপকর্ম করতে গিয়ে নিহত হওয়া অনেকের পরিবার নিজেদের নিহত সন্তান / পরিবারের সদস্যদের / নিকটজনদের “জুলাই শহীদ” প্রমান করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, প্রায় সকলেই সফলও হয়। তবে পরবর্তীতে ফেসবুকে লেখালেখি, বিভিন্ন মিডিয়ায় অনুসন্ধানী নিউজ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় সমালোচনার কারনে কয়েকজনের জালিয়াতি ও কর্তৃপক্ষের অসহায় আত্মসমর্পণের কারনে অন্তর্ভুক্ত কয়েকজনের নাম ইতোমধ্যেই বাদ পড়েছে এবং আরো কিছু বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগের পর্বগুলিতে তথাকথিত শহীদ গেজেটের প্রায় শতাধিক স্ক্যাম নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ ইউনুসীয় জমানায় ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’র মত ‘যেমন খুশি শহীদ সাজো’র ইউনুস ম্যাজিকে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনগনের তীর্থস্থান বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে লুট করতে যেয়ে মারা যাওয়ার পর, কিভাবে কারো ব্যক্তিগত লাভ-লসের আগ্রহে একজন কিডনী ড্যামেজ রোগী হার্ট এটাকে মারা যাওয়ার পর, একজন নেশাগ্রস্থ ছাত্রের বিতর্কিত মৃত্যুর পর, তথাকথিত আন্দোলনের আড়ালে সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার পর এবং লুটপাট করতে যেয়ে নিজেদের আগুনে আত্মঘাতি মৃত্যুর পরেও ইউনুসীয় ম্যাজিকে শহীদের মর্যদা পেয়েছে সেসব নিয়ে আলোচনা করবো।
** ১) শহীদ গেজেটে ৪৬০ নাম্বারে অন্তর্ভুক্ত আছে কামাল হোসেনের নাম।
ময়মনসিংহের কামাল হোসেন স্ত্রীসহ ভাড়া থাকতো ঢাকার লালবাগ কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায়। কামাল হোসেন গত বছরের ৫ই আগষ্ট বাসা থেকে বের হয়। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরদিন ৬ই আগষ্ট সকালে তাঁর বাসার মোবাইলে অজ্ঞাত কেউ কল করে খবর দেয় কামালের দগ্ধ লাশ ঢাকার ধানমন্ডিতে পাওয়া গেছে। তাঁর পরনে থাকা গেঞ্জির পেছনে ‘কামাল’ নামটি লেখা ছিল। সঙ্গে থাকা মুঠোফোন থেকে সিম বের করে স্থানীয় একজন পরিবারকে কল করে মৃত্যুর খবর দেয়। ( https://www.prothomalo.com/…/bangla…/district/vdb7pnmwu4 )
এবার একটু পেছনে যাই, গত বছরের ৫ই আগষ্ট দুপুরের পর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন তথা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ আশপাশের ৫টি বাড়ি এবং সান্তুর রেস্ট্যুরেন্টে উচ্ছৃঙ্খল দুর্বৃত্তরা হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়, অগ্নিসংযোগ করে। এর চারটি বাড়িই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। ৬ই আগষ্ট সকালে ধানমন্ডি ৩২ এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের পূর্ব দিকের ৩ নাম্বার বাড়িতে ৪টি লাশের সন্ধান মেলে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপস্থিত কয়েকজন লাশগুলো উদ্ধার করে জাদুঘরের সামনে ফুটপাথে রাখে। দুইটি লাশ এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে চেনার উপায় ছিলো না। উদ্ধারকারী, পথশিশু ইমরান ও অন্যান্য স্থানীয়দের সূত্রে মিডিয়াতে প্রকাশ হয়, নিহতরা জাদুঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করতে ভিতরে ঢুকে আগুনে আটকা পড়ে মারা গেছে। (https://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/news-603251) আরো অনেক হামলাকারী, লুটেরা, দুর্বৃত্তদের মতো কামাল হোসেনের নামও তথাকথিত শহীদ গেজেটে শহীদি মর্যদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।


** ২) ইউনুসের যেমন খুশি তেমন সাজো শহীদ গেজেটে ৮১৫ নাম্বারে তালিকাভুক্ত হয়েছে সাবেক নৌসেনা মোঃ মনিরুজ্জামান এর নাম।


মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনী রোগে আক্রান্ত ছিলো। CMH এর নেফ্রোলজি বিভাগে নিয়মিত ডায়ালিসিসও করাতেন। গত ৮ই জানুয়ারী হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে মনিরুজ্জামানকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা CMH এর HDU তে নেয়া হয়। সেখানে তার হার্টে ব্লকও ধরা পড়ে। ১০ই জানুয়ারী রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনিরুজ্জামান মারা যায়।
মোঃ মনিরুজ্জামান মারা যাওয়ার পর সেই রাতেই অর্থাৎ ১০ই জানুয়ারী দিবাগত রাত ১২টার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা পরবর্তীতে NCP’র যুগ্ম সদস্য সচিব হওয়া তারেক রেজা নিহত মনিরুজ্জামান’কে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবী করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয় !! শুধু তা-ই না, ঐ ফেসবুক পোস্টে দাবী করা হয় মনিরুজ্জামান আন্দোলনের সময় হাতে ও পায়ে ছররা গুলির আঘাতে আহত হয়েছিলো এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলো। (তারেক রেজা’র পোষ্ট লিঙ্ক https://www.facebook.com/share/1Eze83s4oh, আইডি ডিএক্টিভেট হওয়ায় পোষ্টটি এখন দেখা যাচ্ছে না, স্ক্রিনশট পোষ্টে দিয়ে দিলাম )
তারেক রেজা’র এই ফেসবুক পোষ্টের আগে কারো কোনো পোষ্টে বা কোনো মিডিয়ায় নিহত মনিরুজ্জামান এর কোনোরকম উপস্থিতি পাওয়া যায় নাই এবং সবাই তারেক রেজা’র পোষ্টের রেফারেন্স দিয়েই নিউজ করছে, ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছে।
আন্দোলনের ৫ মাস পরে একজন দীর্ঘদিনের কিডনী রোগী হার্ট এটাকে মারা যাওয়ার পরও কারো ব্যক্তিগত পছন্দের সুপারিশে তথাকথিত শহীদ গেজেটে স্থান করে নিয়েছে নৌসেনা মনিরুজ্জামান। (https://www.ajkerpatrika.com/…/bang…/dhaka/ajpduou6bg6pu )


** ৩) গেজেটে ৩৮ নাম্বারে রয়েছে খাগড়াছড়ির মজিদ হোসেন (১৬) এর নাম।
পরিবারের অভাবের কারনে ২০২৪ এর মে মাসে চট্টগ্রামে ট্রাকের হেলপার হিসেবে চাকরি নেয় মজিদ। গত বছরের ১৯শে জুলাই মালামাল নামিয়ে খালি ট্রাক নিয়ে ফেরার পথে হাজীগঞ্জ রেললাইন পার হতেই আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেডে আটকা পড়ে মজিদ। এ সময় আন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্ত’রা অত্যন্ত শক্তিশালী দাহ্য পদার্থ দিয়ে ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তেই আগুনে ভস্মীভূত হয় ট্রাক এবং গাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হয় কিশোর মজিদ। স্থানীয়রা মজিদ’কে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করায়। আশংকাজনক অবস্থায় ২০শে জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর ২৫শে জুলাই সেখানেই মারা যায় মজিদ।
কিশোর মজিদ হোসেনকে হত্যা করে ২০২৪ এর জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানে খাগড়াছড়ি জেলার একমাত্র শহীদ উপাধি দিয়ে তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে !!!
( https://www.ittefaq.com.bd/715922/খাগড়াছড়ির-একমাত্র-শহিদ-মজিদের-পরিবারের-দিন-কাটে )
** ৪) ইউনুসিয় শহীদ গেজেটের ৭৭৮ নাম্বার সিরিয়ালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ভ্যান চালক সিরাজগঞ্জের শিহাব উদ্দিন প্রামানিক।
গত বছরের ৫ই আগষ্ট দুপুরে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সারাদেশের মত কামারখন্দ উপজেলাতেও বিজয় মিছিল বের হয়। ঐ মিছিলে শিহাব অংশ নেয়, মিছিলে শেষে বাসায় ফিরে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিহাবের স্ত্রী ময়না খাতুন জানান, আমার স্বামী বিজয় মিছিল শেষে বাড়িতে এসে বলে ‘আমার ভালো লাগছে না’ —এই বলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আমরা তাকে চিকিৎসা করার মতো সময় পাইনি। নিহত শিহাব উদ্দিনের মা ছামেনা খাতুন জানায়, ‘কথা কতি কতি আমার বাবাটা মরে গেল’।#


আরো শত শত নতুন বন্দোবস্তের নতুন সংজ্ঞায় শহীদের মত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিহাবও তথাকথিত শহীদ গেজেটে স্থান পেয়েছে। (https://www.kalbela.com/ajkerpatrika/lastpage/115012)
** ৫) তথাকথিত শহীদ গেজেটে ২৯২ নাম্বারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নাটোরের মেহেদী হাসানের নাম।
৫ই আগষ্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করার পর বিকালে নাটোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল এর বাসভবন ‘জান্নাতী প্যালেস’ এবং তার ছোট ভাইয়ের একটি পাঁচতলা বাড়ি ও পুরোনো পৈত্রিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে লুটপাট শুরু করে তথাকথিত আন্দোলনকারীরা। এই হামলার আগেই জীবনাশঙ্কায় শিমুল ও তার পরিবারের সদস্যরা ‘জান্নাতী প্যালেস’ ত্যাগ করে অন্যত্র আশ্রয় নেন। ঐসময়ে লুটপাটের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তদের একটা অংশ ‘জান্নাতি প্যালেস’ এ ঢুকে যায় আর অন্যরা ভবনে অগ্নিসংযোগ করে দেয়। আগুনের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় লুটপাট করতে বাড়ির ভিতরে যাওয়া দুর্বৃত্তরা ‘জান্নাতি প্যালেস’ থেকে আর বের হতে পারে নাই এবং ৪ জন দুর্বৃত্ত ধোঁয়া ও আগুনের তাপে দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। যাদের কথা শহীদ গেজেট সমাচার – ২ (পোষ্ট লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/share/p/16oN6oZFmo)-এ লিখেছিলাম। এই ঘটনায় নিহত ৪ জন ছাড়াও আহত হয় মেহেদী হাসান রবিন। সে জান্নাতী প্যালেস থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বের হতে সক্ষম হলেও তার শরীর ভয়াবহ রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিদগ্ধ মেহেদী হাসানকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ই আগষ্ট ভোরে মারা যায়।
অবাক করার বিষয় হলো যার বাড়িতে লুটপাট অগ্নিসংযোগ করতে গিয়ে নিহত হয়েছে মেহেদী হাসান রবিন, সেই বাড়ীর মালিকের নামেই অর্থাৎ সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ ১৩৫ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে মেহেদী হাসানের মামা পরিচয়ে সোহেল রানা নামে একজন।
** ৬) তথাকথিত শহীদ গেজেটের ৩১৭ নাম্বার নামটি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাগরা গ্রামের কাজী আশরাফ আহমেদ রিয়াজের।
ঢাকা কমার্স কলেজ ও পাটশালা ইউনিভার্সিটিতে ফটোগ্রাফির ওপর লেখাপড়া করা রিয়াজ ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলায় বাসা ভাড়া নিয়ে একাই থাকতো এবং বিভিন্ন মডেল ফটোগ্রাফি করে আয় করতো। অনলাইনে, ক্যাম্পাসে এবং তার ঢাকার ফ্রেন্ড সার্কেলে ঋষি নামেই পরিচিত রিয়াজ অনলাইনে ‘ঋষি কাব্য’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ও Rishi Kabbo নামে একটি ফেসবুক আইডি পরিচালনা করতো। গত বছরের ২৯শে জুলাই ‘ঋষি কাব্য’ নামক পেজে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দিয়েছিলো কাজী আশরাফ আহমেদ রিয়াজ, সেদিন রাতেই তার সাথে মোবাইলে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয়। ৩০শে জুলাই রিয়াজের পরিবার তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। ৩১শে জুলাই তার বাবা এবং ছোট ভাই শান্ত কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে রিয়াজের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এইসময় রিয়াজের বাড়িওয়ালাকে এবং রিয়াজের পরিচিত বা বন্ধুদের কাউকেই কাউকে কোনকিছু না জানিয়েই তাড়াহুড়ো করে তারা রিয়াজের লাশ গ্রামে নিয়ে দাফন করে এবং স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে সবাইকে জানায়।


এদিকে রিয়াজের বন্ধু, সহপাঠি এবং তার পরিচিতজনরা তার মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরে ফেসবুকে নানারকম পোস্ট দিতে থাকে। কেউ কেউ পোস্টে লিখে রিয়াজ ড্রাগস এডিক্ট ছিলো, ড্রাগসের ওভারডোজের ফলে তার মৃত্যু ঘটেছে, কেউ কেউ লিখে সে আত্মহত্যা করেছে, কেউ লিখেন হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছে।তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে মৃত্যুর কারন স্ট্রোক বলা হলেও ইন্টেরিম সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই-আগষ্ট মাসে নিহত আন্দোলনকারী সকলকে শহীদের স্বীকৃতি ও তাদের পরিবারকে ৩০লক্ষ টাকা দেয়ার ঘোষনা দেয়ার পর থেকেই রিয়াজের পরিবারের ভাষ্য পরিবর্তন হয়ে যায়।

প্রথম দিকে তারা দাবী করেন রিয়াজকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন দেখা গেছে !! এক পর্যায়ে সেই ভাষ্যও পরিবর্তন হয়। পরবর্তীতে রিয়াজের পিতা দাবী করেন, রিয়াজকে গুলি করে নয়, তাকে ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে, পিটিয়ে, নানাভাবে নির্যাতন করে পুলিশ হত্যা করেছে !!!ইন্টেরিম সরকারের ঘোষনা করা অর্থ পাওয়ার জন্য এভাবে গুলি করে বা নির্যাতন করে হত্যার দাবী করলেও রিয়াজের মৃতদেহের পোস্টমর্টেম তার পরিবার তখন করেনি এবং এখন পর্যন্ত করতে দেয়নি। ঐসময়ের রিয়াজের বন্ধু, সহপাঠি, ক্যাম্পাসের বা পরিচিত জনদের দেয়া ঘটনা সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু পোষ্ট ডিলিট হয়ে গেছে কিংবা আইডি ডিজাবেল / ডিএক্টিভেট হওয়ায় পাওয়া যাচ্ছে না, তারপরও কয়েকটি পোষ্টের লিঙ্ক দিলাম যা এখনো দেখা যাচ্ছে।
১) https://www.facebook.com/100069354444072/posts/818705270451280
২) https://www.facebook.com/share/1AsEBAHJGD
৩) https://www.facebook.com/share/171fy6oFwc
৪) https://www.facebook.com/share/1LaZHZxRPT
৫) https://www.facebook.com/share/19z1AzbQNE
৬) https://www.facebook.com/share/19VTyYuo4G এবং
৭) https://www.facebook.com/share/1GN2QeLkHG

* * সামনের পর্ব আসবে শীঘ্রই, সেই পর্বেও থাকবে তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত শহীদদের বিষয়ে আরো চমকপ্রদ কিছু তথ্য।

error: Content is protected !!