জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – শহীদ’দের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ – ১০ !!!

প্রায় সব মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল এর অগ্নিকান্ডে ২৪ জন নিহত হয়েছে। মিডিয়ায় প্রকাশিত ও প্রচারিত নিউজের উপর ভিত্তি করে ঐ পর্বে লিখেছিলাম ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’এ ২৪ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে একজন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক ছিলেন। দখলদার ইন্টেরিমের পক্ষ থেকে এই অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহতের দাবী করা হয়েছে এবং প্রায় সমস্ত মিডিয়াতেও নিহতের সংখ্যা ২৪ জনই উল্লেখ করা হয়েছে একাধিকবার।এমনকি ১৮ই আগষ্ট ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ এর মালিক শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২শ’ সন্ত্রাসীকে আসামি করে একটি মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে একজন ইন্দোনেশিয়া’র নাগরিকসহ মোট ২৪ জন মৃতের সংখ্যা লিখতে বাধ্য করা হয়।

অচেনা একজন
8 Min Read

আজ তথাকথিত জুলাই শহীদ গেজেটের একটা অংশ নিয়ে আলাপ করবো। আজকের আলাপটা “জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – শহীদ’দের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ – ৪” পর্বের সংশোধনী বা আপডেটও বলা যায়। গত ৮ই জুলাই পোষ্ট করা ঐ পর্বে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ১৮ জনের স্ক্যাম নিয়ে আলোচনা করেছিলাম যারা সবাই যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর-৬ আসনের সাবেক সাংসদ শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন পাঁচ তারকা হোটেল ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ ভাংচুর, লুটপাট করতে গিয়ে নিজেদের সাথীদের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে, ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

প্রায় সব মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল এর অগ্নিকান্ডে ২৪ জন নিহত হয়েছে। মিডিয়ায় প্রকাশিত ও প্রচারিত নিউজের উপর ভিত্তি করে ঐ পর্বে লিখেছিলাম ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’এ ২৪ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে একজন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক ছিলেন। দখলদার ইন্টেরিমের পক্ষ থেকে এই অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহতের দাবী করা হয়েছে এবং প্রায় সমস্ত মিডিয়াতেও নিহতের সংখ্যা ২৪ জনই উল্লেখ করা হয়েছে একাধিকবার।

এমনকি ১৮ই আগষ্ট ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ এর মালিক শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু ‘হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২শ’ সন্ত্রাসীকে আসামি করে একটি মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে একজন ইন্দোনেশিয়া’র নাগরিকসহ মোট ২৪ জন মৃতের সংখ্যা লিখতে বাধ্য করা হয়।

হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল অগ্নিকান্ডে নিহত ১৯ জনের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন নিউজ অনেক মিডিয়া করলেও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে দেখা যায় ১৯ জনের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ২ জনের নামও আছে। অর্থাৎ অগ্নিসংযোগ করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ১৭ জনের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন নিউজ মিডিয়ায় আসে। এইসময় অতিরিক্ত আরো ১ জনের নাম খুঁজে বের করে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ১৮ জন হামলাকারীর নাম ৪র্থ পর্বে পোষ্ট করি।

দীর্ঘদিন থেকেই এই শহীদ গেজেট এবং গেজেটের স্ক্যাম নিয়ে কাজ করার ফলে গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত মিডিয়ার সংবাদ পড়া ও বিশ্লেষন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ / অনুসন্ধান করে তা পর্যালোচনা করা সহ নানা প্রক্রিয়ায় এনালাইসিস করে যশোরের হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল এ হামলা, লুটপাট ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দারুন চমকপ্রদ ডাটা উম্মোচিত হয়েছে।

সরকারী পর্যায় (হাসপাতাল, ফায়ার বিগ্রেড সহ) এবং সমস্ত মিডিয়াতে ২৪ জন নিহতের দাবী করা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে জনশ্রুতি রয়েছে এই নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি, যা গোপন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগনের কারো কারো মতে এই সংখ্যা শতাধিক, কারো মতে ৬৫/৮০/৯০, অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট সংখ্যা না জানলেও বলা যায় ২৪ জনের চেয়ে আরো অনেক বেশী মারা গেছে।

যদিও “জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৪র্থ তম” পর্বে ১৮ জন অন্তর্ভুক্তির তথ্য উল্লেখ করেছিলাম, কিন্তু পরবর্তীতে আরো বিশ্লেষণের করে এখন পর্যন্ত মোট ২৩ জনের নাম খুঁজে পেয়েছি। অর্থাৎ ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক মিস্টার উতম ডিজোকো / Diokoutomo) এর নাম বাদ দিয়ে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল-এ লুটপাট হামলা ও অগ্নিসংযোগ করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত ২৩ জনের নামই গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

শহীদ (!) গেজেটে পাওয়া নতুন ৫জনের নাম ও গেজেট নাম্বার হলোঃ

** গেজেট নাম্বার- ৩২, নাম- মোঃ আলামিন বিশ্বাস,

** গেজেট নাম্বার- ৩৪৩, নাম- মোঃ সিফাত ফেরদৌস,

** গেজেট নাম্বার- ৩৪৭, নাম- রাসেল রানা,

** গেজেট নাম্বার- ৭৯৮, নাম- মোঃ খালিদ হোসেন শান্ত এবং

৩০শে জুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হালনাগাদ করা নতুন শহীদ গেজেটের

** গেজেট নাম্বার- ৮৪৩, নাম- আঃ আজীজ চাঁন।

এবং

৪র্থ পর্বে উল্লেখ করা ১৮ জন শহীদ (!) এর নাম ও গেজেট নাম্বার হলোঃ

** রোকনুজ্জামান রাকিব (গেজেট তালিকা নং ২৯),

** মো: শাওয়ান্ত মেহতাব প্রিয় (গেজেট তালিকা নং ৩০),

** মোঃ তারেক রহমান (গেজেট তালিকা নং ৩১),

** আবরার মাসনুন নীল, (গেজেট তালিকা নং ৬৯),

** মোঃ ইউসুপ আলী, (গেজেট তালিকা নং ১১০),

** মোঃ আব্দুল্লাহ ইবনে শহীদ (গেজেট তালিকা নং ১১৩),

** মো: মেহেদী হাসান আলিফ, (গেজেট তালিকা নং ১১৫),

** সাকিব, (গেজেট তালিকা নং ১৭৭),

** মো: সাকিবুল হাসান মাহি, (গেজেট তালিকা নং ৩৩৩),

** রুহান ইসলাম! (গেজেট তালিকা নং ৩৩৫),

** সামিউর রহমান সাদ, (গেজেট তালিকা নং ৩৩৬),

** মেহেদী হাসান, (গেজেট তালিকা নং ৩৩৮),

** ফয়সাল হোসেন, (গেজেট তালিকা নং ৩৩৯),

** মোঃ হাফিজ উদ্দিন (গেজেট তালিকা নং ৩৪১),

** মোঃ সোহানুর রহমান, (গেজেট তালিকা নং ৩৪২),

** ফজল মাহাদী চয়ন (গেজেট তালিকা নং ৫২২),

** রিয়াদ শেখ (গেজেট তালিকা নং ৬৯১),

** সৈয়দ মিথুন মোরশেদ (গেজেট তালিকা নং ৭৯৬)।

সংশ্লিষ্টতা থাকায় আরেকটা বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন,

বিভিন্ন পত্রিকায় হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল-এ অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত আরো ৩ জনের নাম এসেছে, তারা হলোঃ

১) আব্দুল্লাহ (গেজেট নাম্বার ১২৯),

২) ইমতিয়াজ আহমেদ জাবির (গেজেট নাম্বার ১৭৬) এবং

৩) তৌহিদুর রহমান রানা (গেজেট নাম্বার ৩৪৪)।

উপরে উল্লেখিত এই ৩ জন হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল এর অগ্নিকান্ডে নিহত হয় নাই।

আব্দুল্লাহ- ৫ই আগষ্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানী ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়ে বংশাল থানার সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হয়। কপালে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় ৩ মাস চিকিৎসাধীন ছিলো, পরবর্তীতে ১৪ই নভেম্বর সকালে সিএমএইচ-এ মারা যায়।

ইমতিয়াজ আহমেদ জাবির- ১৯শে জুলাই রামপুরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২৬শে জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এবং

তৌহিদুর রহমান রানা- ৫ই আগষ্ট বিকালে রাজধানী ঢাকার বাইপাইল এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

বিভিন্ন মিডিয়ায় আলাদাভাবে নিহত আরো ৮ জনের নাম খুঁজে পাওয়া গেলেও তাদের নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সেই ৮ জন হলোঃ

১) ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের ছাত্র আল আমিন (১৮),

২) চৌগাছার পাশাপোল আমজামতলা কলেজের ছাত্র আবুল বাসার (১৯),

৩) যশোর সরকারি সিটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিফাত আহমেদ রিয়াদ (১৮),

৪) আলমগীর হোসেন আলম (২৭),

৫) আবু সাঈদ রাসা (২৪)

৬) যশোর জিলা স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র রেলগেট ডালমিল এলাকার আবু সাঈদের পুত্র মাহিন (১৬),

৭) সদরের ফতেপুর দাইতলা গ্রামের শওকত আলী ছেলে সেজান হোসেন (২১) এবং

৮) রাতুল (১৭)।

শহীদ (!) গেজেটের বিভিন্ন স্ক্যাম নিয়ে আগের দেয়া পোষ্টগুলোর লিঙ্কঃ

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১ (আপডেটেড) –

https://www.facebook.com/share/p/1C6QwaXRwn

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – শহীদদের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ – ২

https://www.facebook.com/share/p/16oN6oZFmo

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – মবের নৃশংসতায় আত্মত্যাগ – ৩

https://www.facebook.com/share/p/1JLnWFq6cu

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – শহীদ’দের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ – ৪ (আপডেটেড)

https://www.facebook.com/share/p/19MZhmh8Cu

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – থানা আক্রমন ও অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে শহীদ। পর্ব – ৫ (আপডেটেড)

https://www.facebook.com/share/p/1J5MuzsACf

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৬

বিজিবির পোশাকে ভারতীয় বিএসএফ এবং ‘র’ এর সৈনিক গুজব ছড়িয়ে বিজিবির সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে হত্যা ও আনসার একাডেমীতে হামলা করতে গিয়ে নিহত শহীদ !!!

https://www.facebook.com/share/1CvmArxyxA

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৭

থানা আক্রমন ও অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে শহীদ !!!

https://www.facebook.com/share/p/16mrbt5ND4

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৮

https://www.facebook.com/share/p/1Bd12o7uHC

*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ এর শহীদ সংখ্যা সংযোজন – বিয়োজন সমাচার – ৯

https://www.facebook.com/share/p/173RcsYnf5

* * সামনের পর্ব আসবে শীঘ্রই, সেই পর্বেও থাকবে তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত শহীদদের বিষয়ে আরো চমকপ্রদ কিছু তথ্য।

#জাবির_ইন্টারন্যাশনাল#যশোর#জাবির_হোটেল#শহীদ_গেজেট#শহিদ_গেজেট#ভূয়া#অগ্নিসংযোগ#অগ্নিদগ্ধ

error: Content is protected !!