জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – থানা আক্রমন ও অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে শহীদ।পর্ব – ৫

৫ তারিখ দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ (!) করেছেন এবং দেশত্যাগ করেছেন শুনে কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব ছিলো পুরাই স্থবির হয়ে যায়। এরপর সারাদেশে হামলা তান্ডব হত্যা নৈরাজ্য শুরুর পর নেতা-কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের জীবন রক্ষার শংকায় আত্মগোপনে চলে যায়। এমন অবস্থায় লীগের নেতা-কর্মীরা অন্য কারো উপর হামলা করবে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ???মামলার এজাহারে “বিজয় মিছিল করার সময় হামলা” লাইনটি লিখা হলো গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ভূয়া শহীদদের দ্বারা সংঘঠিত হামলা, হত্যা, লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিসংযোগ সহ প্রতিটি অপকর্ম ঢেকে দেওয়ার অপকৌশল।

অচেনা একজন
14 Min Read

আজকের সমাচারে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবেই ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরে সারাদেশে পুলিশের উপর চালানো বর্বরোচিত হামলা ও নৃশংস হত্যাকান্ডের বিষয়ে আলোচনা করবো।আলোচনা করবো আইয়্যামে ইউনুসিয়াতের জমানায় কোন ম্যাজিকের মাধ্যমে দুর্বৃত্তরা ‘শহীদ গেজেট’এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেই বিষয়ে।

আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের পর, বর্বর দুর্বৃত্তরা থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ বক্স, পুলিশ লাইন্স, পুলিশ কমিশনার অফিসে সন্ত্রাসী হামলা করে নৃশংসভাবে পুলিশ হত্যা, অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করতে গিয়ে দায়িত্বপালনরত পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে তারা কিভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশ খুন, অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আসামী হওয়ার পরিবর্তে ‘ইনুস গ্যাজেট’ এর মাধ্যমে বীরের মর্যদায় সম্মানিত হয়ে ‘শহীদ গেজেট’ এ অন্তর্ভুক্ত হয় সেই বিষয়ে আলোচনা করবো।

৫ই আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে ‘জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান” আইএসপিআর এর এই ঘোষনা মিডিয়ায় আসার পরপরই মূলত সবার বদ্ধমূল ধারনা হয়ে যায় যে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হতে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাই-ই হয়।

এরপর থেকে সারাদেশে শুরু হয় চরম নৈরাজ্য হামলা লুটপাট হত্যা ও অগ্নিসংযোগ। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অসংখ্য সরকারী অফিস ও স্থাপনা। প্রায় ৫০০ থানা-ফাঁড়ি পুলিশ বক্স এবং অস্ত্রগার লুট করা হয়। পুলিশ লাইন্সে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, অসংখ্য দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়। আরো হামলা ভাংচুর তান্ডব লুটপাট অগ্নিসংযোগ চলে প্রায় লক্ষাধিক লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী-সমর্থক দের বাসা-বাড়ী- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এই সবকিছুই করে তথাকথিত আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা নামধারী দুর্বৃত্ত’রা, এদের পরিচয় শুধুই দুর্বৃত্ত।

এসব দুর্বৃত্তদের উম্মত্ত ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, অস্ত্র, অস্ত্রাগার, ও নিজের জীবন রক্ষার্থে অনেক জায়গায় পুলিশ-বিজিবি-আনসার বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। এতে অনেকজন নিহত হয়, মিডিয়ায়ও আসে বিস্তারিত।

এই শহীদ গেজেটে ‘শহীদ’ এর সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্যই পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া উশৃংখল হামলাকারী দুর্বৃত্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে !!!

শুধু শহীদ গেজেটে স্থান নয়, পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এমন প্রমানিত সব ঘটনার জন্য মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রতিটি মিথ্যা মামলায় গুলিবর্ষন করা পুলিশ বাদ দিয়ে আসামী করা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক’দের।

আজকের সমাচারে আলোচনা করবো তথাকথিত আন্দোলন শেষে থানায় হামলা, অস্ত্রাগার লুট ও পুলিশ হত্যা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত দুর্বৃত্তদের হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাদের আসামী করে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে এমন কয়েকটি ঘটনা।

*** প্রথমে হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানাঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ (!) করে চলে যাওয়ার পর অর্থাৎ ৫ই আগষ্ট বিকালে বানিয়াচং থানা ঘেরাও করে একদল দুর্বৃত্ত। এরপর থানা কম্পাউন্ডে থাকা সব মোটরসাইকেল ও পুলিশের সব গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়, থানা পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে। এই সময় পুলিশ গুলি চালালে ঘটনাস্থলে ৬জন ও পরে আরো ৩জন সহ মোট ৯জন নিহত হয়। ( https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/yj9fcjahn0 )

এরপর আশেপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এসে বানিয়াচং থানা ঘেরাও করে রাখলে থানার ভেতরে একটি কক্ষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ পুলিশের ১৫ থেকে ১৬ সদস্য আটকা পড়ে। থানা ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে বিকালের দিকে সেনাবাহিনী পৌঁছায়। পরিস্থিতি শান্ত হতে হতে বাজে রাত ২টা, এরপর থানার দ্বিতীয় তলায় অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর গাড়িতে ওঠানোর সময় এসআই #সন্তোষ_দাশ_চৌধুরী কে উপস্থিত লোকজন ছিনিয়ে নিয়ে সবার সামনে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর আশেপাশের গ্রামের লোকজন থানায় এসে সম্তোষের মৃত দেহের উপর আরও ২দফা হামলা চালিয়ে লাশটি থানার সামনে বানিয়াচং হবিগঞ্জ এর আঞ্চলিক সড়কের তিন রাস্তার মোড়ে ফেলে রাখে। কিছুক্ষন পর লাশ নিয়ে বানিয়াচং বড় বাজার শহীদ মিনারের মাঠে যায় এবং সেখান থেকে ভোররাতে পুনরায় থানার সামনে এনে ফেলে রাখে। ৬ই আগষ্ট সকাল ১০টার দিকে ক্ষুব্ধ লোকজন লাশ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখে, এসময় আরও ২দফা তার নিথর দেহের উপর হামলা নিয়ে মোট ৫বার হামলা চালায়।( https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/26ya9jw4mp ) বেলা ২টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে হস্তান্তর করেন।

পুলিশের গুলিতে নিহত ৯ জনের নামই শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

গেজেটের ১ নাম্বারে আছে হাসাইন মিয়া,

২ নাম্বারে মোঃ আশরাফুল আলম,

৩ নাম্বারে মোঃ মোজাক্কির মিয়া,

৪ নাম্বারে শেখ নয়ন হোসেন,

৫ নাম্বারে মোঃ তোফাজ্জুল হোসেন,

৬ নাম্বারে মোঃ সাদিকুর রহমান,

১২ নাম্বারে মোঃ আকিনুর রহমান,

৪৭৪ নাম্বারে সোহেল আখঞ্জী এবং

৭৪৪ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ আনাছ মিয়া।

পুলিশের গুলিতে এই ৯জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২২শে আগষ্ট সাবেক এমপি মজিদ খান সহ আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ১৬০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩০০ জনকে আসামী করে বানিয়াচং থানায় মো. ছানু মিয়া একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ছানু মিয়া নিহত ৯ জনের মধ্যে হাসান মিয়ার পিতা। ( https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/b0c039xlyu )

উল্লেখ্য নিহত ৯জনের কারো লাশেরই পোষ্ট মর্টেম হয় নাই এবং এই দায়ের করা এজাহারে কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলি ছোড়ার কথাটি নেই। আছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গুলি ছোড়েন এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য তথ্য হলো, মামলার ৭১ নম্বর আসামি আজিজুর রহমানের ছেলে রুহুল আমিন দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ ইতালি থাকে।

নিহত নয়ন মিয়ার (২০) বাবা বেঁচে নেই। তাঁর চাচা খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ মামলায় কে আসামি, কারা আসামি, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। তবে মামলার আগের দিন বাদী ছানু মিয়াসহ আমাদের ৯টি পরিবারকে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিএনপির নেতারা আমাদের নিয়ে যান। সেখানে বসেই এ মামলা সাজানো হয়। কারা কারা আসামি, এ বিষয়ে আমাদের ধারণা দেওয়া হয়নি।’ নিহত আশরাফুল (১৭), মোজাক্কির (৪০), তোফাজ্জল (১৮), সাদিকুর (৩০), আকিনুরের (৩২) পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলার বাদীকে তাঁরা চেনেন না। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলে আসামি দেননি।

ঐদিনই অর্থাৎ ২২শে আগষ্ট বানিয়াচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ বাদী হয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা এসআই সন্তোষ দাশ চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। (https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/redcb1dcu9)

*** দ্বিতীয় ঘটনা কুষ্টিয়া মডেল থানাঃ

৫ই আগষ্ট দুপুরে ১২টার দিকে সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দিবে ঘোষণা দেয়ার পরপরই একদল দুর্বৃত্ত কুষ্টিয়া মডেল থানায় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলা চালায়। পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তদের হটাতে ব্যর্থ হয়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছোড়া শুরু করে। খবর পেয়ে সেনাসদস্যরা এসে মডেল থানার সব পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এর পরপরই দুর্বৃত্তরা অস্ত্রাগার লুট করে থানা ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে থানার ভেতরের সব আসবাব পত্র, জরুরি রেকর্ড, ভবনের সামনে থাকা ৮/১০টি মোটরসাইকেল সহ সবকিছু পুড়ে যায়। দুর্বৃত্তদের আরেকটি অংশ কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনসে ঢুকে হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের গুলি চালায়। এতে অনেক মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা ৬ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। ( https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/mcsptbxz51 )

পুলিশের গুলিতে নিহত ৬ জনের নামই শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

গেজেটের ৪৪ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মো: আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিম,

৪৫ নাম্বারে আছে মোঃ ইউছুফ শেখ,

৪৬ নাম্বারে আছে মোঃ আশরাফুল ইসলাম,

৪৮ নাম্বারে আছে মোঃ উসামা,

৪৯ নাম্বারে আছে মোঃ বাবলু ফারাজী এবং

৫৬৬ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ সুরুজ আলী।

অবাক করার বিষয় হলো থানা, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও পুলিশ লাইন্সে হামলা কিংবা অন্যান্য কেনো ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা না থাকার পরও পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা এমপি-মন্ত্রীসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীদের নামে জানামতে ৫টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশের গুলিতে নিহত আব্দুল্লাহ’র পিতা লোকমান বাদী হয়ে ১৫ই আগষ্ট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ সহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০/২০ জনকে আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ( https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/j2snc3yfpv )

নিহত ইউসুফ শেখ’র মেয়ে মোছা. সীমা বাদী হয়ে ১৯শে আগষ্ট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ সহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ২০/৩০ জনকে আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ( https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/ii3uchvi1k )

নিহত আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার বাদী হয়ে ২০শে আগষ্ট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ( https://www.dhakapost.com/country/329129 )

নিহত বাবুর পক্ষে জনৈক রাইসুল হক বাদী হয়ে ১৫ই আগষ্ট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জনকে আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ( https://www.jagonews24.com/m/country/news/961721 )

নিহত বাবলু ফারাজী’র ছেলে সুজন বাদী হয়ে ১৯শে আগষ্ট ছেলে সুজন মাহমুদ বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ সহ ১২৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৪০/৫০ জনকে আসামী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। (https://www.banglanews24.com/print/1378807.details )

একই ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৫টি হত্যা মামলা হওয়ার পর জানা যায় কুষ্টিয়া মডেল থানা ভাংচুর হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদ এর নেতৃত্বে !!! মাজেদ সগর্বে বলে ‘কুষ্টিয়া থানা আমি মাজেদ নেতৃত্ব দিয়ে ভাঙিছি’। https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/r15o4nv8of

*** ৩য় ঘটনা হলো সোনাইমুড়ী থানাঃ

৫ই আগষ্ট বিকালে সেনাপ্রধানের বক্তব্য শেষে সোনাইমুড়ী থানার মেইন গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে এক দল দুর্বৃত্ত। পুলিশ মাইকে বারবার অনুরোধ করার পরও ওদের নির্বৃত্ত করতে না পেরে আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে। এরপর দুর্বৃত্তরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে এসে দুটি পিকআপ ভ্যান, অর্ধশতাধিক হোন্ডা ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে, থানার মুল্যবান জিনিসপত্র ও অস্ত্রাগার লুট করার পর থানায় অগ্নিসংযোগ করে এবং ৪ পুলিশকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। ঐসময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় মোহাম্মদ হাসান, তানভীর হোসেন মাহমুদ, মাঈন উদ্দিন প্রকাশ ইয়াসীন, ইয়াছিন এবং আহত হয় আসিফ হোসেন। (https://www.jugantor.com/country-news/834436 ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আসিফ ১৬ই আগষ্ট মারা যায়। ( https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/ci7xzb4xnh )

পরবর্তীতে নিহত ৫ জনের নামই শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়।

গেজেটের ১৬৪ নাম্বারে আছে মোঃ আসিফ হোসেন,

৫২৫ নাম্বারে আছে মোহাম্মদ হাসান,

৫৪৪ নাম্বারে আছে তানভীর হোসেন মাহমুদ,

৫৪৮ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মাঈন উদ্দিন প্রকাশ ইয়াসীন এবং

৮৪২ নাম্বার সিরিয়ালে আছে ইয়াছিন এর নাম।

পরবর্তীতে ১৯শে আগষ্ট নিহত আসিফের বাবা মোরশেদ আলম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৩৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২০০০/২৫০০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। ( https://www.prothomalo.com/bangladesh/xdmlqj3432 )

একই ঘটনায় নিহত তানভীর হোসেন মাহমুদ এর মা নারগিস আক্তার ২৯শে আগষ্ট আওয়ামী লীগের ১০০ জনের নাম উল্লেখ করে নোয়াখলী ৬ নম্বর আমলি আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদেশের জন্য রাখা অবস্থায় ১লা সেপ্টেম্বর পূর্বে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে ৪৪ জনের নামে নতুন অভিযোগ দায়ের করে।

এটা নিশ্চিত যে, ৪৬ জনের নাম বাদ দেয়ার জন্য এখানে অনৈতিক লেনদেন হয়েছে। https://www.jagonews24.com/m/country/news/966317

আরেকটা দুঃখজনক ঘটনা হলো, সোনাইমুড়ী থানার এক পুলিশ কনস্টেবল হত্যা মামলায় জড়িত থাকা ৩ সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। ১২ই অক্টেবরের নিউজ https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/nza14ppe5q

এরপরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় আদেশ দেয়,

“জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে সক্রিয়ভাবে যারা অংশ নিয়েছিলো, তাদের বিরুদ্ধে ১৫ জুলাই হতে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সংগঠিত ঘটনার জন্য কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না।” ১৪ই অক্টোবরের নিউজঃ https://www.prothomalo.com/bangladesh/cltq0w86jh

থানা ফাঁড়ি পুলিশ বক্স পুলিশ লাইন্সে হামলা করে হত্যা লুটপাট অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্রাগার লুট করা, কারাগারে হামলা করে অস্ত্রাগার লুট করা ও জঙ্গী সহ কারাগারের সকল বন্দী নিয়ে পালিয়ে যাওয়া – এই সবই হয়েছে ৫ই আগষ্ট বিকেলে পট পরিবর্তনের পর। এইসব অপকর্ম করা দুর্বৃত্ত কিভাবে শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয় ??

৫ তারিখ দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ (!) করেছেন এবং দেশত্যাগ করেছেন শুনে কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব ছিলো পুরাই স্থবির হয়ে যায়। এরপর সারাদেশে হামলা তান্ডব হত্যা নৈরাজ্য শুরুর পর নেতা-কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের জীবন রক্ষার শংকায় আত্মগোপনে চলে যায়। এমন অবস্থায় লীগের নেতা-কর্মীরা অন্য কারো উপর হামলা করবে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ???

মামলার এজাহারে “বিজয় মিছিল করার সময় হামলা” লাইনটি লিখা হলো গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ভূয়া শহীদদের দ্বারা সংঘঠিত হামলা, হত্যা, লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিসংযোগ সহ প্রতিটি অপকর্ম ঢেকে দেওয়ার অপকৌশল।

পরিশেষে, ৫ই আগষ্ট গুলি চালানোর জন্য পুলিশের কাছে যথেষ্ট কারণ ছিলো, কারণ পুলিশ রেগুলেশনেই আছে জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য, সরকারী সম্পত্তি রক্ষার জন্য, বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য এবং আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ আগ্নেয়াস্র ব্যবহার করতে পারবে।

error: Content is protected !!