বাংলাদেশের অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথাকথিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বীকৃতি দিয়ে এবং তাদের ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এই বছরের (২০২৫) ১৫ই জানুয়ারী প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫” এ ‘জুলাই শহীদ’ সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “শুধুমাত্র সেই সকল ব্যক্তিরাই ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে বিবেচিত হবেন, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ৫ই আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের আক্রমণের কারণে যারা নিহত হয়েছেন।”
আবার গত ১৭ই জুন এক অধ্যাদেশ জারি করে প্রতারণার মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা নিলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা নেওয়া আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।
তথাকথিত এই গেজেটে প্রথমে ৮৩৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পরবর্তীতে ৩০শে জুন প্রথম সংশোধনীর মাধ্যেম আরো ১০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৮৪৪ জন শহীদের নাম প্রকাশ করা হয়। ৩রা আগষ্ট আবার দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ৮ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বর্তমানে মোট ৮৩৬ জনের নাম ‘জুলাই শহীদ’ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত আছে। অসাংবিধানিক সরকারের সংজ্ঞানুসারেই তথাকথিত এই শহীদ গেজেটে শহীদদের তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন করা হয়নি। গেজেটভুক্ত ৮৩৬ জনের মধ্যে কমপক্ষে ২০০+ জন নিহত হয়েছে ৫ই আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পরে বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, বিজিবি ও আনসারদের উপরে হামলা করে অস্ত্রলুট ও পুলিশ হত্যা, আনসার ও বিজিবি সদস্যদের হত্যার সময়ে পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের জীবন রক্ষার্থে ছোঁড়া গুলিতে।
প্রায় ১০০+ জনের মৃত্যু হয়েছে সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতা- কর্মীদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুট ও অগ্নিসংযোগের সময় নিজেদের দেয়া আগুনে বা আঘাতের কারনে।
প্রায় শতাধিকের মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনা, হার্টএটাক, হিটস্ট্রোক, গনপিটুনিসহ নানাকারনে।
অর্থাৎ গেজেটভুক্ত অর্ধেকের বেশিই তথাকথিত ‘জুলাই শহীদ’এর সংজ্ঞানুসারেই শহীদের তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয়, শুধুমাত্র তথাকথিত শহীদ গেজেট এর তালিকা দীর্ঘ করার জন্যই সর্বরকমের অপচেষ্টা করা হয়েছে।
ইতোপূর্বে ১৩টি পর্বে শহীদ গেজেটের এসব স্ক্যাম নিয়ে ধারাবাহিক লেখা পোস্ট করেছি। আজ এমনই আরো কিছু ভূয়া শহীদ নিয়ে আলোচনা করবো।
** শহীদ গেজেটের ৫৮২ নাম্বার সিরিয়ালে অন্তর্ভুক্ত আছে রুদ্র সেন এর নাম।
শাবিপ্রবি ছাত্র রুদ্র সেন গত বছরের ১৮ই জুলাই সন্ধ্যার পর ভেলায় খাল পারাপারের সময় পানিতে পড়ে ডুবে মারা যায়।
ঘটনার সময় সাথে থাকা নিহত রুদ্রের বন্ধু প্রত্যক্ষদর্শী শাহরিয়ার জামান সিয়াম তার এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘… … … সন্ধ্যার পর আমরা বাসার সবাই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। এই ভয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে সিনিয়র কোনো ভাইয়ের বাসায় চলে যাব। … … … এই ভেবে আমরা প্রধান সড়কে না গিয়ে সুরমা ৬ নং রোড দিয়ে বাগবাড়ী যাওয়ার জন্য যাই। সেখানে শেষ মাথায় একটা গভীর ময়লা খাল ছিল যেটা পার হয়ে বাগবাড়ী যাওয়া লাগবে। সেখানে স্থানীয়রা ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতো। আমি, রুদ্র সেন, আনন্দ ও সাজিদ আমরা যখন ভেলা দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছিলাম, তখনই একটু দূরে যাওয়ার পর ভেলা ভারসাম্যহীন হয়ে আমরা পানিতে পড়ে যাই। এরপর আশপাশে আবার তাকিয়ে দেখি রুদ্রকে দেখা যাচ্ছে নাহ। রুদ্র সাঁতার জানত না, পানিতে পড়ার সাথে সাথেই সে পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর রুদ্রকে পাওয়া যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাড়াতাড়ি তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।’ বিস্তারিত- https://thedailycampus.com/student-movement…/209958/amp
** শহীদ গেজেটের ৭৪৮ নাম্বার সিরিয়ালে তালিকাভুক্ত হয়েছে অটোরিকশা চালক মহিউদ্দিন মোল্লা।
গত বছর ২রা আগষ্ট মহিউদ্দিন মোল্লা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়, দুর্ঘটনার ১২ দিন পর চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা যাওয়ার পরও মহিউদ্দিন মোল্লা’র নাম শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। https://www.prothomalo.com/amp/story/bangladesh/opq9n6db0n )
** শহীদ গেজেটের ৬১৫ নাম্বার তালিকাভুক্ত হয়েছে জামাল উদ্দিন এর নাম।
প্রথমদিকে জামাল উদ্দীনের মা সাহিদা বেগম দাবী করেছিলেন ‘গত ১৯ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে মোহাম্মদপুর টাউন হলের সামনে পুলিশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ চালাকালে পদদলিত হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা য়ায়।’ বিস্তারিত- https://www.kalerkantho.com/…/priyo…/2024/11/08/1444362
পরবর্তীতে প্রথম আলো পত্রিকার সরজমিন ইনভেস্টিগেশনের পর প্রকাশিত রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়, “পুলিশের ভাষ্যমতে জামাল শহীদ নন। গত বছরের ১৯শে জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে রিকশা চালানো অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন জামাল। হাসপাতালে নিলে সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়।” এবং জামালের বোন রিনা বেগম বলেন, ‘জামাল আন্দোলনে গিয়ে আহত বা আক্রান্ত হয়নি। তাঁর নাম কীভাবে শহীদের তালিকায় উঠেছে, তা তিনি জানেন না।’ বিস্তারিত- https://www.prothomalo.com/amp/story/bangladesh/opq9n6db0n
** গেজেটে ৫৮৮ নাম্বার সিরিয়ালে রয়েছে মোঃ বাপ্পী আহমেদ এর নাম।
মোহাম্মদ বাপ্পী আহমেদের মা সুরাইয়া আহমেদ দাবী করে ‘চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনে ৫ই আগষ্ট গুলি করে মেরে লাশ হাতিরঝিলে ফেলে দেওয়া হয়।’
৫ই আগষ্ট দুপুর ২টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেন এবং ক্ষমতা থেকে আওয়ামী লীগ উৎখাত করা হয়। সরকার পতনের পর নিহত হয়েও মোহাম্মদ বাপ্পী আহমেদের নাম শহীদি মর্যাদায় গেজেটভুক্ত হয়েছে এবং তার পরিবার থাকে দাবী করা হয়েছে তাকে আন্দোলনে হত্যা করা হয়েছে !!
আসুন দেখি মোহাম্মদ বাপ্পী আহমেদের মৃত্যু কখন ও কিভাবে ঘটেছে।
মোহাম্মদ বাপ্পী আহমেদের একমাত্র বোন উমাইমা আহমেদ’র ভাষ্যমতে, বাপ্পী ৫ই আগষ্ট ভোরে নাশতা খেয়ে লংমার্চে গেছে, সেখান থেকে বিজয় মিছিলে। মিরপুর ১০ নাম্বার সে বিজয় মিছিলে যাওয়ার ছবিও নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে। বিজয় মিছিল থেকে এসে ভাত খেয়েছে। এরপর সন্ধ্যার আগে যে বের হয়ে ফিরে অসেনি। সারারাত আমি আর আম্মু খোঁজ নিয়েছি। … … … বাপ্পীর মা সুরাইয়া আহমেদ বলেন, ৬ই আগষ্ট দুপুর আড়াইটা তিনটার দিকে বাসায় দুজন সাংবাদিক আসে … … জানতে পারলাম হাতিরঝিলে আমার ছেলের লাশ পাওয়া গেছে।
উমাইমা বলেন, ভাইয়ার লাশ পাওয়া গেছে শুনে আমরা গিয়ে দেখি অনেক মানুষের ভিড়। মধুবাগ ব্রিজের নিচে ওর ডেডবডি পানি থেকে তুলে মাটির ওপরে তুলে রাখছে। শুনলাম চারটা থেকে পাঁচটা লাশ পাওয়া গেছে বাপ্পীর সাথে। সবাই গুলিবিদ্ধ।
আন্দোলন শেষে, সরকার উৎখাতের পরে এমন একটা রহস্যজনক মৃত্যু যার কোন চাক্ষুস বা কোনরকম স্বাক্ষী, প্রত্যক্ষদর্শী নাই সেই মৃত্যুও আন্দোলনে হত্যা !! সে মৃত্যুও শহীদী মর্যদাপ্রাপ্ত !!!
বিস্তারিত- https://thedailycampus.com/student-movement…/209958/amp
** শহীদ গেজেটের ৩৭৯ নাম্বার সিরিয়ালে আছে আনাস বিল্লাহ,
৩৯৩ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ আলম সরদার এবং
৪১৮ নাম্বার সিরিয়ালে আছে আব্দুল বাশার ওরফে আদম আলীর নাম।
গত বছর ৫ই আগষ্ট দুপুরের মধ্যে সরকার পরিবর্তন ও প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পর সেনাপ্রধান সকল দ্বায়িত্ব নেয়ার পর বিকেল ৫টার পরে কয়েকশত লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিল নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের নাকনা গ্রামের বাড়িতে আক্রমন করে। তারা বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং একপর্যায়ে তারা জাকিরের বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। তিনি নিজের ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবন রক্ষার্থে ছাদ থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে কয়েক জন গুলিবিদ্ধ হয় ও নিহত হয় কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের আনাস বিল্লাহ, কল্যাণপুর গ্রামের আদম আলী ও কোলা গ্রামের আলম হোসেন।
হামলাকারীরা পরবর্তীতে আরো শক্তি সঞ্চয় করে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে রাত ৮টার দিকে আবারও জাকির হোসেনের বাড়িতে হামলা করে। বাড়িতে ঢুকে জাকির হোসেন, শাকের আলী, জাহাঙ্গীর আলম, সজীব হোসেন ও আশিককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ হিজলিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আনার পথে মারা যায়। বিস্তারিত- https://www.risingbd.com/bangladesh/news/566876
** গেজেটের ৮০ নাম্বার তালিকাভুক্ত হয়েছে মোঃ কবিরুল ইসলাম (ডাঃ রুবেল) এর নাম।
গত বছরের ৫ই আগষ্ট সন্ধ্যার পরে রাজধানীর আদাবর থানায় হামলা করে উম্মত্ত তথাকথিত আন্দোলনকারীরা।
এই সময় নিজ বাসার সামনে হট্টগোল শুনে নিচে নেমে আসেন ডা. রুবেল। ওই সময়ে উচ্ছৃঙ্খল হামলাকারীদের আক্রমন থেকে জীবন রক্ষার্থে তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে আদাবর থানার পুলিশ। সেখানে শরীরে একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় ডা. রুবেল। বিস্তারিত- https://medivoicebd.com/article/30234
** শহীদ গেজেটে ২১৫ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মেহেরুন নেছা এর নাম।
ঢাকার মিরপুরের কাফরুলের বাসিন্দা তানহা গত বছরের ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর মবে অংশ নিয়ে গণভবনে যায়। সেখান থেকে ছবি তুলে ফেসবুকেও দেয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে বাসায় ফিরে। বাসাতে ফিরে কিছুক্ষন পরেই হঠাৎ ঘরের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় তানহা !!
যদিও তার পরিবার থেকে দাবী করা হয় কাফরুল থানা থেকে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে তানহা নিহত হয়েছে, কিন্তু সেই সম্ভাবনা অনেক কম। কেননা থানা থেকে ছোঁড়া গুলি তার বাসায় ঢুকার সম্ভাবনা প্রায় শূণ্য।
ওইরাতে ১১টার দিকে জানাজা শেষে মিরপুরের পূর্ববাইশটেক কবরস্থানে দাফন করা হয় মেহেরুনকে। বিস্তারিত- https://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/news-656736
** গেজেটে ৭২৮ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ শাহিনুর আলম এর নাম। অটোরিক্সা চালক শাহিনুর ঢাকার লালবাগ এলাকার একটি অটোরিক্সা গ্যারাজেই থাকতো।
গত বছর সরকার পরিবর্তন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরের দিন অর্থাৎ ৬ই আগষ্ট ভোরে ফজরের নামাজ শেষে গ্যারেজে ফেরার সময় পুলিশ শূণ্য লালবাগ থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শাহিনুর আলম।
উল্লেখ্য, লালবাগ থানা থেকে ৫ই আগষ্ট রাতের মধ্যেই সমস্ত পুলিশকে নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে নেয়া হয়েছিলো এবং তারপর থেকেই লালবাগ থানা ছিলো পুলিশ বা জনশূণ্য। ঐ রাতেই লালবাগ থানায় হামলা করে ভাংচুর, লুটপাট অগ্নিসংযোগ করা হয়।
** গেজেটের ১৮ নাম্বার সিরিয়ালে আছে সাজিদ হাওলাদার এর নাম।
সাজিদ হাওলাদার গত বছরের ৫ই আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাতের খাবার খেতে হোটেলে যায়। খাবার খেয়ে রাত ৮টার পরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার হটাৎ অজ্ঞাতস্থান থেকে ছুটে আসা গুলিতে নিহত হয়। বিস্তারিত- https://www.banglatribune.com/amp/others/891441/বাদীকে-চিনি-না-বাদীও-আমাকে-চেনে-না-সাবেক-মেয়র )
** গেজেটের ৭৩৫ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ আল আমিন এর নাম।
গত বছরের ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর সারা দেশেই উচ্ছৃঙ্খল উম্মত্ত তথাকথিত আন্দোলনকারীরা প্রতিটি থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন, পুলিশ সদর দপ্তরে জঙ্গী হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট করে, প্রায় ৩হাজার পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং সমস্ত অস্ত্র লুট করে ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সেদিন বিকেল থেকে বাড্ডা থানাতেও দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। এক পর্যায়ে আক্রমনকারীদের হামলায় টিকতে না পেরে রাত্রি আড়াইটার দিকে থানার পুলিশ জীবন রক্ষার্থে থানা থেকে বের হয়ে এলোপাথারি গুলি চালিয়ে ডিআইটি প্রজেক্ট হয়ে রামপুরা ব্রিজের দিকে চলে যায়। দুর্বৃত্তদের এই হামলাতে মোঃ আল আমিনও অংশ নেয়। হামলা চলাকালীন আল আমিন তার ফেসবুকে দফায় দফায় হামলা সংক্রান্ত ৫টি পোস্ট দেন। তার সর্বশেষ পোস্ট দেয় রাত সাড়ে ১২টায়।
পুলিশ থানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় রাত আড়াইটার দিকে ব্র্যাক বিশ্বিবদ্যালয়ের বিপরীত পাশের রাস্তায় আল-আমিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। বিস্তারিত- https://samakal.com/bangladesh/article/272184/এক-হত্যাকাণ্ডে-দুই-মামলা-জানে-না-পরিবার)
** গেজেটের ৫৫৬ নাম্বার সিরিয়ালে রয়েছে সাকিবুল হাসান সাজু এর নাম।
১২ বছর বয়সী সাকিবুল হাসান সাজু গত বছরের ৫ই আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর বিকেলে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
সাজু ৫ই আগষ্ট বাসা থেকে মিছিলের শব্দ শুনে তার মায়ের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে বের হয় ছবি তোলার জন্য। সেই ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল নামের দুর্বৃত্তদের মিছিল থেকে পুলিশের উপর হামলা করা হয়। আক্রমনকারীদের হামলা থেকে জীবনরক্ষার্থে পুলিশ গুলি করে। এই সময়ে সাজু গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। বিস্তারিত-https://www.jugantor.com/country-news/840139
** গেজেটের ৪০৬ নাম্বার সিরিয়ালে আছে জাবির ইব্রাহীম এর নাম।
জাবির ইব্রাহীম মাত্র ৬ বছরের একটি শিশু। ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরে সারাদেশের মত উচ্ছৃঙ্খল তথাকথিত আন্দোলনকারীরা উত্তরা পূর্ব থানা দখল করে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্রলুট ও পুলিশ সদস্যদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গী হামলা চালায়। পুলিশও জীবন রক্ষার্থে আক্রমন প্রতিহত করতে সাউন্ডগ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়ে। আক্রমনের তীব্রতা বেড়ে গেলে পুলিশ গুলি চালিয়ে জীবন রক্ষার চেস্টা করে।
এ সময় উত্তরার ৪ নাম্বার সেক্টরের জসিম উদ্দিন সড়কে বাইতুস সালাম মাদরাসা গেইটের কাছে মা-বাবার সঙ্গে রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় জাবিরও গুলিবিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত জাবির’কে নিয়ে দৌড়ে পাশের একটি হাসপাতালে নিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। চিকিৎসক রক্ত দিতে বলেন। কিন্তু সেই হাসপাতালে রক্ত জোগাড় করা হলেও ক্রস ম্যাচের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য জাবিরকে দ্রুত উত্তরার আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অন্য আরেকটি হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার চিকিৎসক জাবিরকে মৃত ঘোষণা করে। বিস্তারিত- https://www.prothomalo.com/bangladesh/n96dkgf3i3
** গেজেটের ১৩৮ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ মিজানুর রহমান এর নাম।
৫ই আগষ্ট বিকালে বাইপাইল নিজের বাসার ছাদের ওপর গুলিবিদ্ধ হয় মোঃ মিজানুর রহমান।
দুর্বৃত্তদের হামলায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জীবন রক্ষার্থে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত মিজানুর রহমানকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বিস্তারিত- https://thedailycampus.com/july-stories/207754
** গেজেটের ১৪৩ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ সোহেল রানা এর নাম।
৫ই আগষ্ট পটপরিবর্তনের পর সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জীবন রক্ষার্থে ছোড়া গুলিতে বাইপাইলে ভাড়া বাসার চারতলার জানালার পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় গুলি এসে লাগে তাঁর পেটে। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে এনাম মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর রাত ৯টার দিকে সোহেলের মৃত্যু হয়। বিস্তারিত- https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/d9xzaxbqop
** ৫৯১ নাম্বার সিরিয়ালে আছে সাইফুল ইসলামের নাম।
গত বছরের ২০শে জুলাই কাকরাইল মোড়সংলগ্ন শান্তিনগর এলাকায় দুর্ঘটনায় আহত হয় পেশায় গাড়িচালক সাইফুল ইসলাম।…. হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেরদিন ২১শে জুলাই তিনি মৃত্যুবরন করে।
সাইফুল ইসলামের পুলিশ নথিতে লেখা আছে, সাইফুলের মৃত্যু হয়েছে ‘কাট ইনজুরিতে’ (কাটাছেঁড়া)। বিস্তারিত-https://www.prothomalo.com/amp/story/bangladesh/opq9n6db0n
সামনের পর্ব আসবে শীঘ্রই, সেই পর্বেও থাকবে তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত শহীদদের বিষয়ে আরো চমকপ্রদ কিছু তথ্য।
এতদসংক্রান্ত
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১ !!!
https://www.facebook.com/share/p/1C6QwaXRwn
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ২ !!!
শহীদদের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ
https://www.facebook.com/share/p/16oN6oZFmo
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৩ !!!
মবের নৃশংসতায় আত্মত্যাগ
https://www.facebook.com/share/p/1JLnWFq6cu
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৪ !!!
শহীদ’দের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ (জাবির হোটেল)
https://www.facebook.com/share/p/19MZhmh8Cu
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৫ !!!
থানা আক্রমন ও অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে শহীদ
https://www.facebook.com/share/p/1J5MuzsACf
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৬ !!!
বিজিবির পোশাকে ভারতীয় বিএসএফ এবং ‘র’ এর সৈনিক গুজব ছড়িয়ে বিজিবির সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে হত্যা ও আনসার একাডেমীতে হামলা করতে গিয়ে নিহত শহীদ !!!
https://www.facebook.com/share/1CvmArxyxA
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৭ !!!
থানা আক্রমন ও অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে শহীদ
https://www.facebook.com/share/p/16mrbt5ND4
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৮ !!!
https://www.facebook.com/share/p/1Bd12o7uHC
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৯ !!!
শহীদ সংখ্যা সংযোজন – বিয়োজন
https://www.facebook.com/share/p/173RcsYnf5
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১০ !!!
শহীদ’দের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ (জাবির হোটেল)
https://www.facebook.com/share/p/1AzNF6p8ev
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১১ !!!
https://www.facebook.com/share/p/1EwfoE8fpn
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১২ !!!
https://www.facebook.com/share/p/1EzcQENkxq/?mibextid=wwXIfr
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১৩ !!!
https://www.facebook.com/share/p/1BGfVSoM85


