আগের পর্বগুলিতে জুলাই – আগষ্ট ষড়যন্ত্রের আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট না থেকেও এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নানাভাবে নিহত হয়ে বিতর্কিত’দের শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম।
আজ আলোচনা করবো তথাকথিত আন্দোলনকারীদের হিংস্রতা থেকে সরকারী সম্পত্তি, থানার অস্ত্র ও ভবন সর্বোপরি পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিজেদের জীবনরক্ষার্থে ছোড়া রাবার বুলেট ও গুলিতে নিহত হয়ে তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়া লুটেরা দুর্বৃত্তদের প্রসঙ্গে।
ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ থানা, নরসিংদীঃ
গত বছরের ১৯শে জুলাই রাতে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ থানায় হামলা করে উম্মত্ত আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা থানার ভেতরে ঢুকে ভবনের প্রতিটি কক্ষ, দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করে। ভেতরে থাকা সব জিনিসপত্র লুট করে থানা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাংচুর করার পরে থানা চত্বরে রাখা মাইক্রোবাস, পিকআপ, বেশকয়েকটি মোটরসাইকেল ও টহল কাজে ব্যবহৃত গাড়ি আগুন ধরিয়ে ভস্মীভূত করে দেয়। https://www.banglanews24.com/nati…/news/bd/1395637.details
এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে উম্মত্ত আন্দোলনকারীদের হিংস্রতা থেকে জীবনরক্ষার্থে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে। গুলিতে শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন, বেকার শিয়াম, দিনমজুর হৃদয় মীর ও সুজন মিয়া মারা যায়।
থানায় হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় নিহত হামলাকারী দুর্বৃত্তদের চারজনই ইউনুসিয় ম্যাজিকে শহীদী মর্যদায় তথাকথিত জুলাই শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
**গেজেটের ১৬ নাম্বার সিরিয়ালে আছে আমজাদ হোসেন এর নাম,
** গেজেটের ৩৪০ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ সিয়াম এর নাম,
** গেজেটের ৩৪৫ নাম্বার সিরিয়ালে আছে তামিম হৃদয় এর নাম এবং
** গেজেটের ৩৫৪ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ সুজন মিয়া’র নাম।
উল্লেখ্য ১৯শে জুলাই বিকালে নরসিংদীতে আন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্ত’রা ইট-পাটকেল, পেট্রল বোমা, লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিকালে জেলা কারাগারে হামলা চালায়। এর ফলে ৯ জঙ্গিসহ ৮২৬ বন্দী কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা কারাগার থেকে লুট করে ৮৫টি অস্ত্র ও প্রায় ৮ হাজার রাউন্ড গুলি। https://www.ittefaq.com.bd/amp/694274/নরসিংদী-কারাগারে-হামলা-যেভাবে-পালিয়ে-যান-৮২৬
একই দিন বিকেলের দিকে সহিংস আন্দোলনকারীরা শিবপুর কলেজগেট এলাকায় নির্মমভাবে পি’টিয়ে ও কু’পিয়ে হ’ত্যা করে পৌর মৎস্যজীবী লীগের নেতা টিপু সুলতান কে।
এনায়েতপুর থানা, সিরাজগঞ্জঃ
সিরাজগঞ্জ এনায়েতপুর থানা ট্রাজেডি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পুলিশের উপর এক নৃ’শংস গণহ’ত্যা। থানার ছাদ থেকে, পাশের বাড়ি থেকে, শৌচাগার থেকে, জঙ্গলে থেকে খুঁজে এনে একে একে ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে নি’র্মমভাবে পি’টিয়ে, কু’পিয়ে, পু’ড়িয়ে হ’ত্যা করা হয়েছিলো। আন্দোলনকারী নামের উম্মত জঙ্গীদের হামলায় আহত হয় আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য। লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেয়া এনায়েতপুর থানায়। এইসময় লুট হয় থানার অস্ত্রাগারের সমস্ত অস্ত্র ও গুলি।
২০২৪ সালের ৪ঠা আগষ্ট সকাল ১০টা থেকে ৩ দফায় এনায়েতপুর থানায় হা’মলা হয়েছিলো। প্রথমে ৪ঠা আগষ্ট বেলা সাড়ে ১০টার দিকে এনায়েতপুর কেজির মোড় এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল এসে থানার মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক তাদের বারবার অনুরোধ করে বলেন, “এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান, আমরা আপনাদের শত্রু নই, কাজেই আপনারা এখানে এই ইটপাটকেল নিক্ষেপ বন্ধ করুন। অন্যথায় আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো”। ওসির অনুরোধে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।এর কিছুক্ষণ পরে আবারও অপেক্ষাকৃত বড় একটি মিছিল এসে থানার মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে, তাদের অনুরোধ করেও কোনো লাভ হয়নি। পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায়।
শেষবার বেলা ১২টার দিকে বেতিল থেকে একটি বড় মিছিল এবং এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে কেজির মোড় হয়ে আরেকটি বিশাল মিছিল ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে এনায়েতপুর থানার দিকে আসে এবং থানার ভেতরে ঢুকে হামলা চালানো শুরু করে। এ সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলেও কোনো লাভ হয়নি। অনুমতি না থাকায় পুলিশ সদস্যরা লাইভ বুলেট ফায়ার করা থেকে বিরত থাকে।
হামলাকারী দুর্বৃত্তদের তান্ডবের মুখে একপর্যায় পুলিশ তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাইলেও তারা চার থেকে পাঁচ হাজার লোক থানার চারপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে আক্রমণ চালায়। যে কারণে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ বাঁচাতে যে যার মতো করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে ও অনেকে পালিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা প্রথমে থানায় ঢুকে থানা কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়ে মুল ফটকে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই থানার পেছন পাশে ভাঙ্গা দেয়ালের ভেতর দিয়ে বের হয়ে উত্তর পাশের বাড়িগুলোয় ঢুকে পড়ে। হামলাকারীরা সেখান থেকে ধরে এনে এনে পি’টিয়ে হ’ত্যা করতে থাকে তাঁদের। হামলাকারীরা বিকেল প্রায় ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় থানা এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে থানার আশেপাশের প্রতিটি বাড়ির ভিতরে ঢুকে, পাশে জঙ্গলে তন্ন তন্ন করে খুঁজে পুলিশ সদস্যদেরকে ধরে এনে বাঁশ, লাঠি, রড দিয়ে পি’টিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কু’পিয়ে সকলকে হ’ত্যা করে। থানা কম্পাউন্ডের মধ্যে থাকা প্রতিটি আবাসিক ভবন, গাড়ি, মোটরসাইকেল সহ সমস্ত আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। উম্মত্ত জঙ্গীরা এই হামলায় ওসি আব্দুর রাজ্জাক, এসআই রইস উদ্দিন খান, তহছেনুজ্জামান, প্রনবেশ কুমার বিশ্বাস, নাজমুল হোসাইন, আনিসুর রহমান মোল্লা, এএসআই ওবায়দুর রহমান, কনস্টেবল আব্দুস সালেক, হাফিজুর ইসলাম, রবিউল আলম শাহ, হুমায়ন কবির, আরিফুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম, শাহিন উদ্দিন ও হানিফ আলীকে পি’টিয়ে ও কু’পিয়ে হ’ত্যা করে।
এই সময় নারী কনস্টেবল রেহেনা পারভীনকে মারধর করে এবং টানা-হেঁচড়া করে তার শ্লীলতাহানি করা হয়। আরেকটি ঘটনা ‘অন্তঃসত্ত্বা কনস্টেবল নাজরাতুন নাহার দুর্বৃত্তদের গণপিটুনীতে নিহত’ প্রচার হলেও মূল ঘটনা ছিলো কনস্টেবল নাজরাতুন নাহারকে অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রচার করে তাঁর সহকর্মীরা দুর্বৃত্ত’দের হামলা থেকে বাঁচিয়েছিলো। তবে তাকে বাঁচানো সেই সহকর্মীদের কেউই শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারে নাই, দুর্বৃত্তরা থানায় ঢুকে সবাইকে পি’টিয়ে ও কু’পিয়ে হ’ত্যা করে।
এই সময়ে পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে ৩জন মারা যায়। https://www.banglanews24.com/nati…/news/bd/1371322.details
১৫ জন পুলিশ সদস্যকে হ’ত্যা, থানার আসবাব ও থানার অস্ত্র-গুলি লুট, থানায় আগুন দেয়ার এই জঙ্গী তান্ডবে অংশ নিয়ে পুলিশের রাবার বুলেটে মারা যাওয়া ৩ জনই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তথাকথিত শহীদ গেজেটে।
** গেজেটের ২১৯ নাম্বারে সিরিয়ালে আছে মোঃ সিয়াম হোসেন এর নাম,
** গেজেটে ২২০ নাম্বারে সিরিয়ালে আছে শিহাব আহমেদ এর নাম এবং
** গেজেটের ২২১ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ ইয়াহিয়া আলী।
৪ঠা আগষ্ট এনায়েতপুর থানায় হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে পু’ড়িয়ে দেয়া, ওসিসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে পি’টিয়ে ও কু’পিয়ে হ’ত্যা, থানা থেকে অস্ত্র লুট করার অভিযোগে গত বছরের ২৫শে আগষ্ট থানার এসআই আব্দুল মালেক বাদী হয়ে এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমদ মোস্তফা খান বাবু, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, খুকনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁন ও ভাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫/৬ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে !!!
উল্লেখ্য, একই দিন দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত সিরাজগঞ্জের এমপি ড. জান্নাত আরা হেনরীর বাসভবনে হামলা ভাংচুর লুটপাট করে। বাড়ির গ্যারেজ ও বাইরের গ্যারেজে রাখা জাতীয় সংসদ সদস্যের সিলযুক্ত গাড়িসহ চারটি গাড়িও ভাংচুর করে। এই সময় সেখানে অবস্থান করা লীগের নেতাকর্মীরা বের হয়ে গেলেও কর্মী শাহীন ও আসিফ আহত হয়ে বাসার ভেতরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারীরা বাসায় অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণে সারাদিনেও ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর জন্য সেখানে যেতে পারে নাই, রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততোক্ষনে পুরো বাড়ির সবকিছু পুড়ে ভষ্মীভূত হয়ে যায়। উদ্ধার করা হয় শাহীন শেখ ও আসিফ এর কংকাল।
অবাক করার বিষয় হলো,
গত ২৩শে মার্চ আসিফ হ’ত্যা মামলা দায়ের করা হয় হেনরী সহ ৩৭৭ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নামে !!!
দুপচাঁচিয়া থানা, বগুড়া।
৪ঠা আগষ্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা দুপচাঁচিয়া জে কে কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি ও জামায়াতের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেয়। তারা অস্থায়ী পুলিশ বক্স ও আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও আগুন দেয়। এই সময় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর ও কয়েকজন নেতা-কর্মীর বাড়িঘরে হামলা করা হয়। এরপর তারা হঠাৎই দুপচাঁচিয়া থানায় আক্রমণ করে। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা ও গৃহনির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আবু রায়হান রাহিম পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয়। আত্মরক্ষা ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীরা আরো বেশি উম্মত্ত ও হিংস্র হয়ে উঠে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে মুনিরুল ইসলাম মুনির নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় এবং দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় আবু রায়হান রাহিম। https://www.jugantor.com/tp-news/836053
আহত রাহিমকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাহিমকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ই আগষ্ট সকালে মারা যায়।
থানায় হামলা ও পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার এই ঘটনায় নিহত দু’জনের নাম শহীদ (!) গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেঃ
** ৩৯ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ মুনিরুল ইসলাম এর নাম এবং
** ২৪৭ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ আবু রায়হান এর নাম।
মনিরুল ইসলাম নিহতের ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর তার বাবা কাহালু উপজেলার বীরকেদার গ্রামের শামসুল ইসলাম ১৬ই জুন রাতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হ’ত্যা মামলা করে। https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/gp6tjmew0v
এবং
আবু রায়হান রাহিম নিহতের ঘটনায় তার মা রওশন আরা বেগম বাদী হয়ে ১৭ই আগষ্ট রাতে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২২ জন নেতাকর্মীসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করে একটি হ’ত্যা মামলা দায়ের করে। https://vorerchetona.com/2024/08/18/দুপচাঁচিয়ায়-রাহিম-হত্য/
সফিপুর আনসার একাডেমি, গাজীপুরঃ
৪ঠা আগষ্ট দুপুরে অন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্ত’রা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার একাডেমিতে হামলা চালায়। তারা আনসার ভিডিপি ক্যাম্পে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও গেটে ভাংচুর চালায়। আনসার সদস্যরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও নিজেদের জীবন রক্ষার্থে গুলি চালায়। গুলিতে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে একজন ব্যক্তি নিহত হয় ও কয়েকজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে হাফিজুল ইসলাম পরদিন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
আনসার ক্যাম্পের এই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হাফিজুল ইসলাম এবং মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এর নাম তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
** শহীদ গেজেটে ২০৭ নাম্বার সিরিয়ালে আছে হাফিজুল ইসলাম এর নাম এবং
** শহীদ গেজেটে ৫০৮ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এর নাম।
এই ঘটনার ১১ মাস পর ৩০শে জুন রাতে নিহত হাফিজুলের বড় ভাই আবদুল হামিদ গাজী বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় একটি হ’ত্যা মামলা দায়ের করেছে। https://www.ajkerpatrika.com/…/bang…/dhaka/ajpyn9du0kxe0 এবং
আব্দুল্লাহ আল মামুন এর বন্ধু পরিচয়ে জনৈক নয়ন মিয়া বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অজ্ঞাতনামা ৪০০ জন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে আসামি কালিয়াকৈর থানায় আরেকটি হ’ত্যা মামলা দায়ের করে। https://www.ajkerpatrika.com/…/bang…/dhaka/ajpyn9du0kxe0
উল্লেখ্য, এই ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৫ই আগষ্ট বিকালে আন্দোলনকারী নামের দুর্বৃত্তরা আবারো আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। শহীদ গেজেট সমাচার – ৬ (পোষ্ট লিংকঃ https://www.facebook.com/share/1CvmArxyxA) এ বিস্তারিত আছে।

গোড়াই হাইওয়ে থানা, টাঙ্গাইলঃ
৪ঠা আগষ্ট দুপুরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ৫০০-৬০০ জনের আন্দোলনকারী দুর্বৃত্তদল টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানায় হামলা করে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল, পাল্টা গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। থানায় আগুন দিয়ে পুলিশের ৪টি গাড়িসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জব্দ করা অন্ততপক্ষে ৩০ থেকে ৪০টি যানবাহন পু’ড়িয়ে দেয়। হামলাকারীদের হামলায় হাইওয়ে থানার ওসি আদিল মাহমুদ, এসআই আনিছুজ্জামান, এএসআই জাহাঙ্গীরসহ ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার জন্য হামলাকারীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার সেল, কাঁদানে গ্যাস ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। এতে হামলাকারী ইমন সহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আহত হয়। ১৮ই আগষ্ট সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মোঃ ইমন। (https://dailyinqilab.com/bangladesh/news/675397)
গোড়াই হাইওয়ে থানায় হামলায় অংশ নেয়া নিহত মোঃ ইমন তথাকথিত শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
** শহীদ গেজেটে ১৩৩ নাম্বার সিরিয়ালে আছে মোঃ ইমনের নাম।
ইমনের বড় ভাই সুমন বাদী হয়ে ২২শে আগষ্ট আওয়ামী লীগের ১৫৭ জনের নাম উল্লেখ ও ৪০০/৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মির্জাপুর থানায় একটি হ’ত্যা মামলা দায়ের করে। (https://www.jagonews24.com/m/national/news/962103)
এতদসংক্রান্ত
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১ (আপডেটেড) –
https://www.facebook.com/share/p/1C6QwaXRwn
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – শহীদদের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ – ২
https://www.facebook.com/share/p/16oN6oZFmo
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – মবের নৃশংসতায় আত্মত্যাগ – ৩
https://www.facebook.com/share/p/1JLnWFq6cu
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – শহীদ’দের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ – ৪ (জাবির হোটেল)
https://www.facebook.com/share/p/19MZhmh8Cu
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – থানা আক্রমন ও অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে শহীদ। পর্ব – ৫ (আপডেটেড)
https://www.facebook.com/share/p/1J5MuzsACf
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৬ !!! (আপডেটঢ)
বিজিবির পোশাকে ভারতীয় বিএসএফ এবং ‘র’ এর সৈনিক গুজব ছড়িয়ে বিজিবির সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে হ’ত্যা ও আনসার একাডেমীতে হামলা করতে গিয়ে নিহত শহীদ !!!
https://www.facebook.com/share/1CvmArxyxA
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৭
থানা আক্রমন ও অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে শহীদ !!!
https://www.facebook.com/share/p/16mrbt5ND4
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ৮
https://www.facebook.com/share/p/1Bd12o7uHC
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ এর শহীদ সংখ্যা সংযোজন – বিয়োজন সমাচার – ৯
https://www.facebook.com/share/p/173RcsYnf5
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – শহীদ’দের আত্মঘাতী আত্মত্যাগ – ১০ !!! (জাবির হোটেল)
https://www.facebook.com/share/p/1AzNF6p8ev
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১১ !!!
https://www.facebook.com/share/p/1EwfoE8fpn
*** জুলাই ষড়যন্ত্রের ‘শহীদ গেজেট’ সমাচার – ১২ !!!
https://www.facebook.com/share/p/1EzcQENkxq/?mibextid=wwXIfr


