রোকেয়া-মৈত্রী থেকে সুফিয়াঃ ঢাবির হলে ছাত্রী সংস্থার ধর্মীয় মুখোশে ছদ্মবেশী রাজনীতি

ট্রু গেজেটের অনুসন্ধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৭৫ জনের অধিক ছাত্রী সংস্থার সদস্যের  তথ্য পাওয়া গেছে।  অনুসন্ধানে ইনকিলাব মঞ্চ,বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, দাওয়া এসোসিয়েশন , অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট কোয়ালিশন ও স্টুডেন্ট সভারেন্টি, স্টুডেন্ট এগেইনেস্ট টর্চার, স্টুডেন্ট এগেইনেস্ট অপ্রেশান, সমাজের জন্য জাগরণ,সজজা,কালচারাল উইং সাইমুম শিল্পগোষ্ঠী, আরবি সাহিত্য পরিষদ’র মতো বেশ কিছু ছদ্মবেশী সংগঠনের সন্ধান পাওয়া গেছে,যেগুলো ছাত্র শিবিরের সাথে মিলে ছাত্রী সংস্থা নিয়ন্ত্রন করে। এছাড়া আবাসিক হলের বাঁধন,কুইজ ক্লাব,বিতর্ক ক্লাব এবং সাহিত্য সংসদ ছাত্রী সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এবি পার্টির ছাত্রপক্ষ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের নারী নেত্রীদের সমন্বয় করতে দেখা যায় ছাত্রী সংস্থার কর্মীদের সাথে।

Truegazette
26 Min Read

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের আবাসিক হলগুলোতে বর্তমানে ছাত্রী সংস্থার এক ছদ্মবেশী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পছন্দ পর্যন্ত—সর্বত্র এই ছাত্রী সংস্থার অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। পোশাক, গান শোনা কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মতো ব্যক্তিগত বিষয়েও শিক্ষার্থীদের কটু কথা ও হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

একাধিক আবাসিক ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, সংগঠনের সদস্যদের একত্রে রাখতে রুম দখলের মতো ঘটনা ঘটছে এবং হল প্রশাসনের উপর অযাচিত চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। যদিও ছাত্রী সংস্থা প্রচলিত রাজনৈতিক দলের মতো সরাসরি কর্মকাণ্ডে যুক্ত নয়, তবে তাদের প্রভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রী সংস্থা বিভিন্ন ছদ্মবেশী সংগঠনের আড়ালে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে দাওয়া এসোসিয়েশন, তরুণ কলাম লেখক ফোরাম এবং ধর্মীয় তালিম দেয়ার মতো আপাত নিরীহ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মেয়েদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া বাঁধন, কুইজ ক্লাব ও ডিবেটিং ক্লাবের মতো পরিচিত ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেও ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা ছদ্মবেশে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বেশিরভাগ হলের নারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন,

এই ক্লাবগুলো মূলত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যা ইসলামী ছাত্র শিবিরের নারী শাখা হিসেবে পরিচিত।

ছাত্রী সংস্থার এই ছদ্মবেশী কার্যকলাপের ফলে হলের সাধারণ ছাত্রীরা অসহায় বোধ করছেন। তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সীমিত হয়ে আসছে এবং একটি চাপা ভীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। কে কোন পোশাক পরবে, কোন গান শুনবে বা কোন ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে—এসব বিষয়েও ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের কুনজরদারি থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক ছাত্রী স্বাভাবিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দ্বিধা বোধ করছেন।এছাড়াও, সংগঠনের স্বার্থে রুম দখল এবং হল প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ছাত্রী সংস্থার কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের পরিচয় বহন করে। এর ফলে হলের স্বাভাবিক নিয়মকানুন লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সাধারণ ছাত্রীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন,

ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচারের আড়ালে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। আপাতদৃষ্টিতে ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মকাণ্ড মনে হলেও, এর মূল উদ্দেশ্য থাকে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ এবং নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের আবাসিক হলগুলোতে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ছাত্রীরা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে শঙ্কিত এবং ছাত্রী সংস্থার এই ছদ্মবেশী রাজত্বের অবসান চান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিষয়ে কতটা অবগত এবং এর সমাধানে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অবিলম্বে এই বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ও ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

ছাত্রী সংস্থার প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে জানা যায়, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা মূলত ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারী শাখা। ছাত্র শিবির, পূর্বতন ছাত্র সংঘ হিসেবে পরিচিত। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংগঠনটির রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো। কিন্তু জেনারেল জিয়ার শাসনামলে জামায়াতের পাশাপাশি তার এ ছাত্র সংগঠন নাম পরিবর্তন করে ১৯৭৭ সালে ছাত্রশিবির নামে কার্যক্রম শুরু করে। আর তাদের নারী শাখা,১৯৭৮ সালের ১৫ই জুলাই ইডেন মহিলা কলেজের ১১ জন ছাত্রীর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। 

ইসলামী ছাত্রীসংস্থা গুপ্ত বা গোপন সংগঠন হিসেবে এতদিন ধর্মীয় মোড়কের আড়ালে কাজ করে এসেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, থানা, জেলা এবং মহানগর এলাকায়। তাদের প্রত্যেক ইউনিটের কমিটি রয়েছে, যা কখনো প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি।সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৫-২০ হাজারের মতো বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।  সারা দেশে ১১২টি ইউনিট রয়েছে বলে জানা যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপে থেকে গোপনে কাজ করলেও ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তাদের একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ টি আবাসিক হলে । তারপর থেকে নারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রক্ষণাত্মক এবং বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছে সংবাদ সম্মেলন বা কর্মসূচিতে। 

সাধারণ  শিক্ষার্থীদের  ইসলামী শিক্ষায় আকৃষ্ট করার আশ্বাস দিয়ে ছাত্রী সংস্থায় যোগ দেয়ার জন্য প্রলুব্ধ করা হয়। একেক হলে একেক পদ্ধতিতে ছাত্রী সংস্থা কাজ করে থাকে। বিভিন্ন হলের একাধিক নারী শিক্ষার্থী আমাদের জানিয়েছেন

সংস্কৃতিমনা বেশ ধরা ছাত্রী সংস্থার সদস্যও দেখা যাচ্ছে ইদানীং ,তারা নাচ গান ,আবৃত্তিতে অংশ নেয়,তবে কাউকে বুঝতে দিচ্ছে না তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।

ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত কাউকে হলেও থাকতে দিচ্ছেনা বলে জানিয়েছে একাধিক ছাত্রলীগের নারী কর্মী। এছাড়া ছাত্রদল, বাম সংগঠনের মেয়েদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করে হলগুলোতে কোনঠাসা করে রেখেছে তারা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন

বেশির ভাগ নারী শিক্ষার্থী কোন দলের  রাজনীতি পছন্দ করেনা, তাই ছাত্রী সংস্থা বেশীরভাগ হলে ঐভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, এমনকি ছাত্রদল ও রাজনীতিতে আকৃষ্ট করতে পারছে না নারী শিক্ষার্থীদের।

তবে ছেলেদের হলগুলো যেভাবে ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রণ করে,ঠিক একই ভাবে মেয়েদের হলেও প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর ছাত্রী সংস্থার নেত্রীদের মর্জিমাফিক হল পরিচালনা করেন । সম্প্রতি কয়েকটি হলের ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়, অনুসন্ধানে জানা যায়, হলের ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্নার তদারকি ছাত্রী সংস্থার নেতৃত্বে হয়েছে।  

এছাড়া নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার ম্যুরাল নষ্ট করে ফেলে ছাত্রী সংস্থার রোকেয়া হল এবং শামসুন্নাহার হলের নেত্রীরা। এছাড়া হলের বাঁধন, ডিবেটিং ক্লাবের মতো সংগঠন ছাত্রী সংস্থার নজরদারিতে এবং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়। একাধিক হলে ছাত্রী সংস্থা এই ক্লাবগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।  ছাত্রশিবিরের ন্যায় ছাত্রী সংস্থা  একাধিক ফেসবুক এবং হোয়াটস এপ গ্রুপের মাধ্যমে হল নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন হলের নারী শিক্ষার্থিরা। তবে ঢাকায় যাদের বাসা আছে তাদের অনেকে বাইরে থেকে ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রমের সাথে জড়িত রয়েছে, ছাত্রী সংস্থার অনেক নেতাকর্মী হলে থাকেনা বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থী জানিয়েছে

ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চায় না, যে তারা ইনিয়ে  বিনিয়ে ধর্মীয় লেবাসে আমাদের প্রলুব্ধ করতে চায়, তবে অনেক নারী শিক্ষার্থী তাদের এড়িয়ে চলে।  

বিভিন্ন হলের নারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন শুধু পর্দা করে এমন মেয়ে ছাত্রী সংস্থা করে ভেবে থাকলে ভুল করবেন, অনেক ছাত্রী সংস্থার নেত্রী পর্দা ছাড়া চলা ফেরা করে আবার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম করে, সকালে হল থেকে এক পোশাকে বের হয় ,বিকালে আরেক পোশাকে বের হয়। যাতে কেউ সন্দেহ না করে। বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের নেত্রীদের প্রহার এবং রুম ভাঙ্গায় এরাই বেশি মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে ধর্মীয় ইস্যুগুলোতে বিতর্ক সৃষ্টি করতেও তারা কাজ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেবাসে। 

ট্রু গেজেট গত পর্বের ধারাবাহিকতায় এবার ছাত্র শিবিরের নারী উইং, ছাত্রী সংস্থার রাজনীতি কারা নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন হলে সেটা জানার চেষ্টা করেছে। আমাদের অনুসন্ধানে মেয়েদের হলে ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রমে ৭৫ জনের অধিক নাম বেরিয়ে এসেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলেই আমাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে। এই প্রতিবেদনটিতে ছাত্রী সংস্থার কার্যকলাপের প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরা হলো। ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

রোকেয়া হল 

রোকেয়া হলে ছাত্রী সংস্থা দাপুটে কার্যক্রম চালাচ্ছে, ১৫ জনের অধিক সক্রিয় ছাত্রী সংস্থার নেত্রির পরিচয় পেয়েছে ট্রু গেজেট। রোকেয়া হল ছাত্রী সংস্থার মূল নেত্রী উম্মে সালমা, ইংরেজি বিভাগ, ২০-২১ সেশন,বাড়ি-চট্রগ্রাম,এফ রহমান হলের শিবির নেতা চট্রগ্রামের ১৮-১৯ সেশনের রায়হান উদ্দিন এর স্ত্রী। ঢাবি শিক্ষার্থী সংসদ গ্রুপের মডারেটর। জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে কোন পোস্ট হলেই সে ডিলেট করে দেয় এমন অভিযোগ আছে। যেকোনো ইস্যুতে খুবই সক্রিয় এই নেত্রী অনলাইনে ছাত্রী সংস্থার পক্ষে ব্যাপক সরব। রোকেয়া হল প্রশাসনের উপর তার একচ্ছত্র খবরদারির খবর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ছাত্রী সংস্থার সাথী শিবির চালিত  দাওয়াহ এসোসিয়েশনের ঢাবি শাখার নেত্রী চট্টগ্রামের ২৩-২৪ সেশনের   সাবরিনা জান্নাত।সে চট্রগ্রাম কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্রী সংস্থার সাথে জড়িত।বর্তমানে রোকেয়া হলের ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল নেত্রী। বিতর্ক ক্লাবের আড়ালে সংগঠনের কাজ করে যাচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের  ছাত্রী সংস্থার  নেত্রী ২৩-২৪ সেশনের রাহাতুল জাহান সারাহ। নিজ জেলা ফেনীতে থাকাকালীন তার এ সংগঠনের রাজনীতিতে পদার্পণ বলে জানা যায়।সংস্কৃত বিভাগের আতিকা রায়হানা, বেলাব,নরসিংদী, রোকেয়া হল  ছাত্রী সংস্থার অন্যতম মুখ ।চাঁদপুরের ২০-২১ সেশনের মরিয়ম আক্তার,ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল নেত্রী, তার স্বামী শিবিরের নেতা। স্বামী তাকে মারধর করায় সাহায্য চেয়ে  ঢাবি শিক্ষার্থী সংসদে পোস্টও করে, যা বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।  

এছাড়া রোকেয়া হল ছাত্রী সংস্থার আলোচিত মুখ হলো,২২-২৩ সেশনের নরসিংদীর বেলাবোর আতিকা রায়হানা, ভোলার  আরবি ২১-২২ সেশনের  ফাতেমা তুজ জোহরা , রোকেয়া হল ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল নেত্রী, কুড়িগ্রামের বাংলার  ২০-২১ সেশনের  উম্মে মাহমুদ  ,অনলাইনে জামাত শিবিরের প্রচারণায় খুবই সরব। নিয়মিত বিতর্ক, গুজব ছড়াতেও দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।সিলেটের ১৮-১৯ সেশনের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বকুল, লক্ষ্মীপুরের ইসলামিক স্টাডিজের  ২১-২২ সেশনের ফাতেহা শারমিন এনি ২২-২৩ সেশনের নূরানী ইসলাম নিশা বিতর্ক ক্লাবের আড়ালে ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া ছাত্রী সংস্থার টাঙ্গাইলের ইংরেজি ২৩-২৪ সেশনের ফারজানাতুজ্জামান টুম্পা, ২২-২৩ সেশনের সাদিকা সাখওয়াত মুনিয়া, বেগম রোকেয়ার গ্রাফিতি মুছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার করে আলোচনায় আসে। 

এছাড়া ঢাবি শিবিরের বি টিম হিসেবে এবি পার্টির ছাত্রপক্ষের রোকেয়া হলের কুমিল্লার ২২-২৩ সেশনের   ফারজানা আক্তার মিতু  কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক  বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাবি শাখা ছাত্রপক্ষের দায়িত্ব পালন করছে।এছাড়া ২০-২১ সেশনের সমাজকল্যাণের স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের নেত্রী ফাতেমাতুল জান্নাত ইমাকে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রী সংস্থার নেত্রীদের সাথে সমন্বয় করতে দেখা যায়।

সুফিয়া কামাল হল 

পাবনার ২০-২১ সেশনের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের  ছাত্রী সুমাইয়া ফাহমিদা,। সুফিয়া কামাল হল ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল নেত্রী। বর্তমানে হল প্রশাসনের সাথে খবরদারি করে হলের কার্যক্রম তদারকি করছে বলে জানা যায় একাধিক সূত্রের ভাষ্যমশ্যমত। তবে সুফিয়া হলের মূল নিয়ন্ত্রক হচ্ছে উমামা ফাতেমা, হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি এখনো উমামা ফাতেমা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে। উমামে বাম ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন জুলাইয়ের আগে । সুফিয়া কামাল হলে বর্তমানে দুটো গ্রুপ আছে বলে সরজমিনে খোঁজ পেয়েছে ট্রু গেজেট।  একটি গ্রুপ উমামা ফাতেমা পন্থী এবং আরেকটি ছাত্রী সংস্থাপন্থী যেগ্রুপের নেতৃত্বে সুমাইয়া ফাহমিদা ও সাকাফি।

এছাড়া ছাত্রী সংস্থার কুখ্যাত নেত্রী নোয়াখালীর,মনোবিজ্ঞান বিভাগের  ২০-২১  সেশনের,নাফিসা ইসলাম সাকাফি সুফিয়া কামাল হলের অন্যতম নিয়ন্ত্রক । সাকাফি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থার প্রথম সারির নেত্রীদের একজন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।  কলেজ থেকেই শিবিরের সংগঠন ছাত্রী সংস্থার সক্রিয় সদস্য এবং পরবর্তীকে সাথী হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে ধর্মীয় ইস্যুতে একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে। সর্বশেষ বেসরকারি একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে টকশোর আমন্ত্রণে যেয়ে ধর্মীয় ইস্যু তৈরি করে একজন সংবাদকর্মীকে চাকুরিচ্যূত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী সংস্থার নামে বেনামে এবং ছদ্মবেশে কার্যক্রম  পরিচালনায় সাকাফি অন্যতম নীতি নির্ধারক। 

কোটা আন্দোলনের সময়ে হলে প্রবেশ করে, ছাত্রলীগের নারী কর্মীদের রুম ভাঙচুর, লুটপাট, সার্টিফিকেট পোড়ানো এবং তাদের উপর হামলায় সে নেতৃত্ব দেয়। সরকার পতনের পূর্বে Students Against Torture(SAT) নামক শিবিরের একটি বেনামি সংগঠনের অন্যতম প্রধান নেত্রী হিসেবে দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করে। এছাড়া সরকার পতনের পর শিবিরের সদ্য গজিয়ে ওঠা ভূঁইফোড় সংগঠন এন্টি ফ্যাসিস্ট কোয়ালিশনের অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব নেয় সে। তার নেতৃত্বে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাশে মেট্রোর পিলারে অঙ্কিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রাফিতিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি আয়োজন করে। যা ব্যাপক সমালোচিত হয়। 

সাকাফির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য একটি তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে, তার আপন বড় ভাই সামরিক বাহিনীতে অফিসার পদে চাকুরিরত অবস্থায় রয়েছে৷ জুলাই-আগস্টে তার ভাইয়ের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য সংগ্রহ করে সে তার অপব্যবহার করে এবং গুজব ছড়ায়। যা গুরুত্বর রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। 

সাকাফি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে টিএসসিতে নামাজের স্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আলোচনায় আসে।অথচ ব্যক্তিগত জীবনে সে নন-মাহরামদের সাথে রাতে পার্টি করেছে বলে জানা যায়।যা তার নিজের ফেসবুকেই আপলোড দিয়েছিল। দর্শন বিভাগে অনেক শিক্ষার্থীকে ক্লাস পরীক্ষা দিতে বাধা দিয়েছে সে। সর্বশেষ ১৯-২০ সেশনের ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা তুলে তা আত্মসাৎ  করেছে। যা নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মাঝে এবং তাদের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র সমালোচনা। 

এছাড়া ১৬ জুলাই রাতে শামসুন্নাহার হলে নারী নেত্রীদের উপর হামলায় নিম্নোক্ত ছাত্রী সংস্থার নেত্রীরা সরাসরি জড়িত ছিল প্রমাণ এসেছে ট্রু গেজেটের হাতে। 

সানজিদা মুক্তা, সুফিয়া কামাল হল ছাত্রী সংস্থার অন্যতম  নেত্রী। শিবিরের পক্ষে সক্রিয় কর্মকান্ডে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যায়।২১-২২ সেশনের বগুড়ার মোসাম্মৎ  রুকু খাতুন,ফিলোসফি বিভাগ, সুফিয়া কামাল হল ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল নেত্রী। শিবিরের যেকোনো ইস্যুতে সামনের সারিতে দেখা যায়। নিজ বিভাগে  সহপাঠী এবং সিনিয়রদের ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেওয়ার অভযোগ আছে ছাত্রী সংস্থার এই নেত্রির নামে।।সাদিয়া জাহান সাইফা,সুফিয়া কামাল হল ছাত্রী সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় বর্ষে আছে অধ্যয়নরত এ নেত্রী দাওয়াহ এসোসিয়েশনের আড়ালে ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ২২-২৩ সেশনের সামিরা মেহনাজ সুফিয়া কামাল হল ছাত্রী সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী। জুলাইয়ে গুজব এবং মব উস্কে দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে সাইফা অনেকটাই নিস্ক্রিয় বলে হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছে।

শামসুন্নাহার হল

শামসুন্নাহার হলের আবাসিক ছাত্রী,গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের সুমাইয়া আক্তার হল এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থার অন্যতম নেত্রী। শিবিরের নারী উইংয়ের সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন ফেনীর আল জামায়েতুল ফালাহিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালীন সময় থেকে। ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডের আড়ালে ছাত্রী সংস্থার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে। বিভিন্ন সময় ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে আলোচনায় আসে সুমাইয়া। তবে সুমাইয়া পরিচিতি লাভ করে জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনের সময় থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ গুলোতে একের পর এক গুজব এবং আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের উস্কানি প্রদান করে। ১৬ জুলাই রাতে হল শাখা ছাত্রলীগের নারী কর্মীদের উপর হামলা এবং তাদের রুম ভাঙচুর, সার্টিফিকেট পোড়ানো ও লুটপাটে নেতৃত্ব দেয় সুমাইয়া। 

এছাড়া সরকার পতনের পর শিবিরের কয়েকজনের নেতার সাথে মিলে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে কাজ করে সে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গ্রুপে অব্যাহত অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অনেকের নামে মামলা দেয়ার ক্ষেত্রে সে ভূমিকা রাখে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে করা একটি মামলার সাক্ষী ও হয় সুমাইয়া। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছে। মামলার, বয়কটের হুমকি দিয়ে সুমাইয়া তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা দাবি করে। বেশিরভাগ ভুক্তভোগী এক্ষেত্রে তাকে টাকা প্রদান না করলেও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সে মামলা থেকে নাম বাদ দেয়। আবার কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পরও মামলা প্রদান করে। সুমাইয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থার প্রথম সারির একজন নেত্রী হয়ে হলে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টি করা, রুম দখল এবং হলের ক্যান্টিন থেকে চাঁদা নেয় বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।

রাজবাড়ির পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা  বিভাগের ২০-২১ সেশনের নুরে জান্নাত সূজানা   ,বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের  ১৯-২০ সেশনের মারজিয়া নুর হল শাখা ছাত্রী সংস্থার অন্যতম মূল নেত্রী। রংপুরের উর্দু বিভাগের  ২৪-২৫ সেশনের  উম্মে রুমান তাসনিমমিশকাতুল জান্নাত,শামসুন্নাহার হল ছাত্রী সংস্থার নেত্রী। ১৮-১৯ সেশনের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অধ্যয়নরত এই নেত্রী নিজ জেলা চট্টগ্রাম থেকেই শিবিরের নারী শাখার সাথে জড়িত। 

চট্টগ্রামের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৯-২০ সেশনের তাবাসসুম নিপা, ২১-২২ সেশনের ,আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিনা তানহা ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল নেত্রী, যদিও তিনি বর্তমানে বাগছাসে পদায়িত । হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, গনতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পদে থাকলেও ছাত্রী সংস্থার গোপন সেলের সদস্য। অনলাইনে মব উস্কে দেওয়া এবং বিভিন্ন ইস্যুতে উস্কানিমুলক ন্যারেটিভ সেট করে হলের সাধারণ নারী শিক্ষার্থিদের বিভ্রান্ত করে জুলাইয়ের আন্দোলনচলাকালীন সময়ে ছাত্রী সংস্থার এই নেত্রী । এছাড়া ঝিনাইদহের  আরবি বিভাগের  ২০-২১ সেশনের আমারাহ বিনতে শওকত ছাত্রী সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। পটুয়াখালীর ২০-২১ সেশনের হাফসাতুল জান্নাত চৈতী, সিরাজগঞ্জের আরবি বিভাগের ১৮-১৯ সেশনের বুশরা জান্নাত সালেহ হল শাখা ছাত্রী সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ।

শামসুন্নাহার হলে ছাত্রী সংস্থার অন্যতম কট্টরপন্থী, গোঁড়া এবং সাম্প্রদায়িক নেত্রী, ১৮-১৯ সেশনের-স্মৃতি আফরোজ সুমি। মানিকগঞ্জের মেয়ে স্মৃতি আফরোজ সুমির বিরুদ্ধে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক উস্কানী, ছাত্রলীগের নারী কর্মীদের মারধর, রুম ভাঙচুর, মামলা দেয়া সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। শামসুন্নাহার হল ছাত্রী সংস্থার প্রধানতম নেত্রী সুমি।। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শামসুন্নাহার হলে শিবিরের অর্থায়নে গরু ভোজ আয়োজন করে। যা হলের নিয়ম বহির্ভূত। কারণ হলে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও থাকে। তাই অতীতে কখনো হলের ভেতর গরু রান্না হয়নি। সে শিবিরের কূটবুদ্ধিতে গরু জবেহ’র নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়। যা নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে এছাড়া সম্প্রতি ছাত্রী সংস্থার এই নেত্রী দ্বিতীয়বার মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে সামনের ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশায়।  

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে ক্যাম্পাস এবং হলে নিরাপদে অবস্থান করলেও একের পর এক ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে। কখনো টিএসসিতে নামাজের স্থান, কখনো নিকাব। এসব কাজ ছিলো তখনকার প্রশাসনকে বিতর্কিত করা এবং ইস্যু তৈরি করে পরিচিতি বাড়াতে দৃষ্টি আকর্ষণ করার নামান্তর। যদিও সেসময় নামাজে বাঁধা কিংবা নিকাব পরায় বাঁধা সৃষ্টি করা হয়নি বলেই জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। শুধুমাত্র ভাইবা, পরীক্ষায় একবার নারী শিক্ষক দিয়ে যাচাই করার রীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানেও রয়েছে। যা নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়ে থাকে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়। সুমি বর্তমানে শিবিরের পারপার্স সার্ভ করতে বাগছাসে(বৈছার ছাত্র সংগঠন) যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে অনুপ্রবেশ করেছে। 

বঙ্গামাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল 

ঢাবি ছাত্রী সংস্থার মূল নিয়ন্ত্রক ময়মনসিংহের বাংলা বিভাগের ২২-২৩ সেশনের  তাহমিনা তামান্না বঙ্গতামা হলের ছাত্রী সংস্থার মূল নিয়ন্ত্রক।  রাজাশাহীর  ২১-২২ সেশনের আন্তজার্তিক সম্পর্কের আয়েশা রেজওয়ানা নুর হল ছাত্রী সংস্থার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ,এছাড়া তিনি হল কুইজ ক্লাবের সভাপতি।  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আন্তজার্তিক সেলের সদস্য ছিলেন। 

বঙ্গমাতা হলে লোকপ্রশাসন বিভাগের কিশোরগঞ্জের ১৭-১৮ সেশনের মাহফুজা আক্তার মিশু, দিনাজপুরের ২৪-২৫ সেশনের প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স এর নুসরাত জাহান,  পটূয়াখালির আসিয়া রামিজা, কুস্টিয়ার ২০-২১ সেশনের নাদিয়া মেহজাবিন, চট্টগ্রামের পটিয়ার একাউন্টিংয়ের হল বাধনের সাধারণ সম্পাদক আয়েশা নূর   ছাত্রী সংস্থার গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা নেত্রী বলে জানা যায়।

এছাড়া খুলনার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২১-২২ সেশনের সুমাইয়া খানম আফিয়ারুওজাতুল জান্নাত হাদিয়া , পঞ্চগড়ের ২০-২১ সেশনের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সানজিদা খানম এবং  ছাত্রী সংস্থার গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা নেত্রী বলে জানা যায়। ২১-২২ সেশনের ওএসএল বিভাগের সুমাইয়া আফরিন, আখিরি জান্নাত আরফিনা, রাজশাহির ২১-২২ সেশনের  জাকিয়া সুলতানা  ছাত্রী , বগুড়ার সমাজকল্যাণের ২৩-২৪ সেশনের সাবিনা ইয়াসমিন মীরা  সংস্থার অন্যতম  নেত্রী। 

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল

এই হলে ব্রাক্ষনবাড়িয়ার ২১-২২ সেশনের  দিবা কালাম  মৈত্রী হল ছাত্রী সংস্থার অন্যতম গুরত্বপূর্ণ মুখ,মৈত্রী ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। নরসিংদির ১৮-১৯ সেশনের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যের   ইয়াসমিন মিতু  অনুসন্ধানে জানা যায়, মিতু  সকাল বেলা এক বেশে হল থেকে বের হয়, রাতে আরেক বেশে। নিজের পরিচয় লুকাতেই কখনো হিজাব, নিকাব কিংবা কখনো আধুনিক পোষাক পরিধান করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে থাকে। বর্তমানে বাগছাসে মিতু অনুপ্রবেশ করেছে শিবিরের ছাত্রী সংস্থার এজেন্ট হিসেবে৷ জানা যায়, একটা সময় ছিলো যখন দুবেলা খাবার খেয়ে পড়াশোনা করতে কষ্ট হয়ে যেতো মিতুর। সে মিতু এখন দামি পোশাক আশাক এবং চাকচিক্যময় চলাফেরা এবং জীবনযাপন করছেন। নিয়মিতই তাকে বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে পার্টি করতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে এসব পরিবর্তনের মূলে রয়েছে তথাকথিত সমন্বয়ক পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন৷ 

সাতক্ষীরার  ২২-২৩ সেশনের নিশিতা জামান নিহা সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে   শিবিরের সংগঠন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া  নরসিংদির সমাজকল্যাণের ২২-২৩ সেশনের তানজিনা তামিম হাফসা নামের একজনের তথ্য জানা যায়। যার বিরুদ্ধে  ছাত্রী সংস্থার হয়ে হলে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাত্রী সংস্থার ২৪-২৫ সেশনের যশোরের মনিরামপুরের অপরাধ বিজ্ঞানের সোহানা প্রিয়া, সমাজকল্যাণের ২২-২৩ সেশনের লামিয়া চৌধুরি লাহা , মৈত্রী ডিবেটিং ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া কুমিল্লার ফার্সি বিভাগের  ১৮-১৯ সেশনের তাসলিমা বিনতে দিদার শাখা ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে।

হলের বাইরে থাকা ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা

সাবিয়া আক্তার,ইংরেজি বিভাগ,১৯-২০ সেশন।ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীল নেত্রী। হলে আবাসিক না হলেও কিন্ত ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনায় সরাসরি সম্পৃক্ত।নিজ ইংরেজি বিভাগে ছাত্রী সংস্থার কাজে সামনের সারিতে দেখা যায় তাকে।এছাড়া উপরোক্ত সাবিয়া আক্তারের একই বিভাগের উম্মে সালমা, রাইসা মনি সুমি এই তিনজন সরাসরি ছাত্রী সংস্থার সাথে জড়িত।  হলে না থেকেও ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনায় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে উল্লেখিত নারী সদস্যরা। নিজ ইংরেজি বিভাগে ছাত্রী সংস্থার কাজে সামনের সারিতে দেখা যায়।এছাড়া হলে ছাত্রী সংস্থার আরো বেশ কিছু সদস্য ও সমর্থকদের তথ্য পাওয়া গিয়েছে,আমরা তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

এছাড়া ব্যাংকিং ২০-২১ সেশনের,  উম্মে  উর্বানা ছাত্রী সংস্থার অন্যতম সক্রিয় সদস্য। অনুসন্ধানে জানা যায় সে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনার সময় থেকে ফেনীতে ছাত্রী সংস্থার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। কোটা আন্দোলনের সময় উর্বানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ গুলোতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক গুজব এবং উস্কানীমূলক পোস্ট করতে থাকে। এক পোস্টে তিনি আন্দোলনে সবাইকে চাকু, গুঁড়া মরিচ ভর্তি পানির বোতল, ধারালো অস্ত্র, রড বা এ জাতীয় দেশীয় অস্ত্র সহ আসতে বলে। তখনো আন্দোলন সহিংস হয়নি। শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পরিকল্পিত উসকানি প্রদান করে বলে জানা যায়।

গোপালগঞ্জের ২১-২২ সেশনের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিভা বিনতে সাহিদ  ঢাবি ছাত্রী সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ  নেত্রী, এছাড়া পলিটিকাল সায়েন্সের ২৪-২৫ সেশনের ময়ূরি আক্তার,২২-২৩ সেশনের সাইয়েদা আফরিন সুমি,দর্শনের দিনাজপুরের ২২-২৩ সেশনের ফৌজিয়া ফারিহা , দর্শনের গোপালগঞ্জের ২৩-২৪ সেশনের মাহমুদা আক্তার মিম, ঝিনাদহের  ২২-২৩ সেশনের  ফারজানা ইয়াসমিন মিম, ২৩-২৪ সেশনের শিরিন আক্তার , আরবি বিভাগের ২২-২৩ সেশনের তাহমিদা তাবাসসসুম  লাবিবা , চট্টগ্রামের ২২-২৩ সেশনের মনোবিজ্ঞানের নুসরাত নুহা, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এর ২২-২৩ সেশনের  রিমি বিনতে আলাউদ্দিন, শিবিরের দাওয়া এসোসিয়েশনের সদস্য, মনোবিজ্ঞানের ২৪-২৫ সেশনের নুসরাত জাহান মিম , ম্যানেজমেন্টের ২০-২১ সেশনের সানজিনা মোর্শেদ জিনিয়া,  কুমিল্লার আরবির ২৪-২৫ সেশনের  মুনাইমা ফারিহা , আইনের ২০-২১ সেশনের জারিন আনজুম তাসনিম ,  সিলেটের টুরিজমের ২৪-২৫ সেশনের মুনিরা চৌধুরি ইপ্তি , ২৩-২৪ সেশনের  তাজকিয়া খানম, টূরিজমের ২২-২৩ সেশনের সামিয়া সিদ্দিকা  ঢাবি ছাত্রী সংস্থার অন্যতম সক্রিয় কর্মী।  

ছদ্মবেশী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন

ট্রু গেজেটের অনুসন্ধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৭৫ জনের অধিক ছাত্রী সংস্থার সদস্যের  তথ্য পাওয়া গেছে।  অনুসন্ধানে ইনকিলাব মঞ্চ,বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, দাওয়া এসোসিয়েশন , অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট কোয়ালিশন ও স্টুডেন্ট সভারেন্টি, স্টুডেন্ট এগেইনেস্ট টর্চার, স্টুডেন্ট এগেইনেস্ট অপ্রেশান, সমাজের জন্য জাগরণ,সজজা,কালচারাল উইং সাইমুম শিল্পগোষ্ঠী, আরবি সাহিত্য পরিষদ’র মতো বেশ কিছু ছদ্মবেশী সংগঠনের সন্ধান পাওয়া গেছে,যেগুলো ছাত্র শিবিরের সাথে মিলে ছাত্রী সংস্থা নিয়ন্ত্রন করে। এছাড়া আবাসিক হলের বাঁধন,কুইজ ক্লাব,বিতর্ক ক্লাব এবং সাহিত্য সংসদ ছাত্রী সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এবি পার্টির ছাত্রপক্ষ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের নারী নেত্রীদের সমন্বয় করতে দেখা যায় ছাত্রী সংস্থার কর্মীদের সাথে।

আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ছাত্রী সংস্থা অতীতের রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করেছে। ছাত্রী সংস্থার নেত্রীরা বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে পদায়িত হয়েছেন। পূর্বে আধুনিক পোশাক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ছাত্রী সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও, এখন একাধিক সূত্র দাবি করছে যে তারা এই মনোভাব থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। তবে বহু শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, এটি একটি লোক দেখানো কৌশল। আধুনিক পোশাক পরিহিত কিংবা নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের নিজেদের সংগঠনে আকৃষ্ট করার জন্যই তারা এই কৌশল অবলম্বন করেছে।   তবে নারী শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে অনিচ্ছুক বলে সরজমিনে উঠে এসেছে। বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষার্থী ছাত্রী সংস্থার রাজনীতি, বাক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ , অত্যাচার, সাম্প্রদায়িক উস্কানি সমন্ধে অবগত থাকলেও ভয়ে  মুখ খুলতে নারাজ। সরেজমিনে অনুসন্ধানে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ধর্মীয় আবরণে হলে হলে ছাত্রী সংস্থার সদস্যরা এমনভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে যে, যে শিক্ষার্থী তাদের বিরোধিতা করবে তাকে সামাজিকভাবে অপদস্ত করা থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের সমর্থক আখ্যা দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে।  শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি এবং তালিকা প্রকাশের পর ‘ট্রু গেজেট’ কতৃক ছাত্রী সংস্থার গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে জেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংস্থার অধিকাংশ নেতা-কর্মী নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের আইডি লক করে রাখে।ছাত্রী সংস্থা নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলমান থাকবে।আমাদের এ প্রতিবেদনে প্রকাশিত তালিকা প্রয়োজনে পুনরায় হালনাগাদ করা হবে।

উল্লেখ্য্, এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য একাধিক ধাপে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে যদি কারো কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকে, তবে অনুগ্রহ করে আমাদের ইমেইল করুনঃ info@truegazette.news

error: Content is protected !!